যোগফল প্রতিবেদক:
রাজধানীর আগারগাঁওয়ের তালতলা এলাকার ফুটপাতে মাত্র ১০০ টাকায় গরুর মাংস ও ভাত বিক্রি করে বেশ পরিচিতি পেয়েছিলেন মিজানুর রহমান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার দোকানের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিদিনই সেখানে ক্রেতাদের ভিড় জমত। তবে সম্প্রতি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) উচ্ছেদ অভিযানে দোকানটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের কাছে ‘ভাইরাল মিজান’ নামে পরিচিত এই দোকানি এখন ১৫ দিনের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ৯ আগস্ট তাকে গ্রেপ্তার করে কাফরুল থানা-পুলিশ। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেন।
মিজানুরের দোকানের জনপ্রিয়তার মূল কারণ ছিল মাত্র ১০০ টাকায় গরুর মাংস ও ভাত। বাজারে গরুর মাংসের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার সময়ে এমন কম দামে মাংস-ভাত পাওয়ায় নিম্ন ও স্বল্প আয়ের মানুষের কাছে দোকানটি হয়ে উঠেছিল আকর্ষণের জায়গা।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মিজানুর সকালে গরুর মাংস ও অন্যান্য উপকরণ নিয়ে দোকানে আসতেন। ফুটপাতেই রান্না করে দুপুর পর্যন্ত খাবার বিক্রি করতেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতার সংখ্যাও বাড়ত। এমনকি কেউ কেউ মোটরসাইকেল নিয়েও সেখানে খেতে আসতেন।
স্থানীয় নির্মাণশ্রমিক রাসেল হোসেন জানান, তিনি নিয়মিত ওই দোকানে খেতেন। তার ভাষ্য, দোকানে আসা বেশির ভাগ মানুষই ছিলেন নিম্ন আয়ের। এক কেজি গরুর মাংস কেনার সামর্থ্য অনেকের নেই। তাই কম দামে মাংস-ভাত খাওয়ার সুযোগ থাকায় তারা মিজানুরের দোকানে আসতেন।
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ঢাকার বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংসের দাম প্রায় ৭৮০ থেকে ৮৫০ টাকা। অন্যদিকে আগারগাঁও ও তালতলার মাঝারি মানের রেস্তোরাঁগুলোতে এক বাটি গরুর মাংসের দাম প্রায় ১৮০ থেকে ২২০ টাকা। ভাতসহ গরুর মাংস খেতে সেখানে অন্তত ২২০ থেকে ২৫০ টাকা খরচ হয়।
এই বাস্তবতায় ১০০ টাকায় গরুর মাংস-ভাত বিক্রি করায় মিজানুরের দোকানটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দোকানটির ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে পড়লে ভিড় আরও বাড়তে থাকে।
গত রোববার তালতলা এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালায় ডিএনসিসি। অভিযানে মিজানুরের দোকানসহ ফুটপাতের অন্যান্য অবৈধ স্থাপনাও উচ্ছেদ করা হয়।
অভিযানের পর সরেজমিনে দেখা যায়, পুরো ফুটপাত ফাঁকা। পড়ে আছে ভাঙা কাঠামো, বাঁশ, টিন ও কাঠের টুকরো। যেখানে আগে মানুষ বসে খাবার খেতেন, সেখানে এখন আর কোনো দোকান নেই।
ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলী জানান, সিটি করপোরেশনের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই ওই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
তবে স্থানীয় দোকানিরা প্রশ্ন তুলেছেন, আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত দখল করে ব্যবসা চললেও তালতলার এই অংশেই কেন অভিযান চালানো হলো।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, ফুটপাতের অবৈধ দোকান উচ্ছেদ হলেও নিম্ন আয়ের মানুষের নাগালের মধ্যে গরুর মাংসের দাম আনার কার্যকর কোনো উদ্যোগ হবে কি না। মিজানুরের দোকানটি বন্ধ হয়ে গেলেও কম দামে এক প্লেট গরুর মাংস-ভাতের চাহিদা যে এখনো রয়েছে, স্থানীয়দের ভিড়ই তার প্রমাণ।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম