যোগফল প্রতিবেদক:
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় পরকীয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে গ্রাম্য সালিশে এক নারীকে প্রকাশ্যে জুতাপেটা করার অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের চারিপাড়া গ্রামে ওই সালিশ বসে। সেখানে ২৪ থেকে ২৫ বছর বয়সী এক নারীকে লোকজনের সামনে বসিয়ে জুতাপেটা করা হয়। এ ঘটনার ভিডিও বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে দেখা যায়, সালিশে উপস্থিত লোকজনের সামনে মাধবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফরিদ উদ্দিন ওই নারীকে জুতাপেটা করছেন। একপর্যায়ে তাকে মাথা নিচু করে ধরে পেটে জুতা দিয়ে আঘাত করতেও দেখা যায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, চারিপাড়া গ্রামের বিল্লাল হোসেন নামে এক যুবকের সঙ্গে ওই নারীর পরকীয়ার অভিযোগ ওঠে। এ অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের নিয়ে সালিশের আয়োজন করা হয়। সেখানে দুজনকেই শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে ওই যুবককে শাস্তি দেওয়ার কোনো ভিডিও প্রকাশ্যে আসেনি।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, শত শত মানুষের সামনে একজন নারীকে এভাবে অপদস্থ করা হলেও কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাননি। তাদের প্রশ্ন, একজন ইউপি চেয়ারম্যানকে এ ধরনের শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা কে দিয়েছে?
অভিযোগের বিষয়ে চেয়ারম্যান মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, ওই নারী প্রবাসী স্বামীর সঙ্গে সংসার করার সময় পরকীয়ায় জড়িয়েছেন বলে অভিযোগ ছিল। সামাজিক বিচারে যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, তিনি সেটিই কার্যকর করেছেন। পরে কিছু ব্যক্তি ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন।
তবে আইনজীবীরা বলছেন, গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে কাউকে এভাবে শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়ার কোনো আইনগত বৈধতা নেই। কোনো ব্যক্তি অপরাধে জড়িত থাকলেও তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
কুমিল্লা আদালতের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট গিয়াস উদ্দিন বলেন, প্রকাশ্যে একজন নারীকে জুতাপেটা করা গুরুতর অপরাধ। ওই নারী কোনো অপরাধ করে থাকলেও তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা উচিত ছিল। সালিশের মাধ্যমে এ ধরনের শাস্তি দেওয়ার আইনগত ভিত্তি নেই।
ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন বলেন, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। কী কারণে ওই নারীকে এভাবে হেনস্তা করা হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তের পর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম