যোগফল প্রতিবেদক:
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বাস দুর্ঘটনার দুই দিন পর হাফিজুর রহমান (২৮) নামে এক কলেজছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, দুর্ঘটনার পর বাসের নিচে পানিতে চাপা পড়ে ছিলেন তিনি।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের পাইকহাটি এলাকায় দুর্ঘটনাস্থলের পাশের খাদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত হাফিজুর রহমান কাশিয়ানী উপজেলার সদর ইউনিয়নের পিংগুলিয়া গ্রামের মৃত কাওসার মোল্যার ছেলে। তিনি বোয়ালমারী ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির সপ্তম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। দুর্ঘটনার দিন ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নিতে কাশিয়ানী থেকে ফরিদপুর যাচ্ছিলেন তিনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (১৭ আগস্ট) পাইকহাটি এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস ট্রাককে সাইড দিতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে অন্তত ১২ জন আহত হন।
দুর্ঘটনার পরদিন বাসটি উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়। একই সঙ্গে আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালানো হলেও তখন হাফিজুরের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এদিকে বুধবার সকালে দুর্ঘটনাস্থলের পাশে পাট জাগ দিতে আসা এক কৃষক পানিতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন। খবর পেয়ে স্থানীয়রা সেখানে জড়ো হন। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করেন।
খবর পেয়ে নিহতের স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি হাফিজুর রহমানের বলে শনাক্ত করেন।
নিহতের চাচা মোশারেফ মোল্যা বলেন, সোমবার সকালে পরীক্ষা দিতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর হাফিজুর আর ফিরে আসেননি। পরে তার নিখোঁজের বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। বুধবার দুর্ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে তারা হাফিজুরকে শনাক্ত করেন।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, সোমবার বাসটি খাদে পড়ে যাওয়ার পর ধারণা করা হচ্ছে হাফিজুর বাসের নিচে পানিতে চাপা পড়ে ছিলেন। বুধবার তার মরদেহ ভেসে উঠলে উদ্ধার করা হয়। স্বজনরা মরদেহ শনাক্ত করেছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম