যোগফল প্রতিবেদক:
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় আবারও পিছিয়েছে। এ নিয়ে ১৯বারের মতো প্রতিবেদন দাখিলের সময় বাড়ানো হলো। নতুন করে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) তদন্ত সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রো (পূর্ব) বিভাগের সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঁঞা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান।
জুলাই অভ্যুত্থান ও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া শরীফ ওসমান হাদি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
গত ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগে গেলে চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে মোটরসাইকেলে থাকা এক ব্যক্তি গুলি করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের পর ওই রাতেই তাঁকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৪ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।
হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। পরে মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা যুক্ত করা হয়। প্রথমে থানা-পুলিশ এবং পরে ডিবির হাতে মামলার তদন্তভার যায়।
তদন্ত শেষে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে আসামি করে গত ৬ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দেয় ডিবি।
অভিযোগপত্রে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে রয়েছেন ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ। তাঁর বাবা-মা, স্ত্রী, শ্যালক, বান্ধবীসহ আরও কয়েকজনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। এছাড়া ভারতে পালিয়ে যেতে সহায়তার অভিযোগে কয়েকজন এবং হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদেরও অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রভুক্ত ১৭ আসামির মধ্যে ফয়সাল করিমসহ শেষের পাঁচজন পলাতক রয়েছেন।
ডিবির তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং বিভিন্ন সময়ে হাদির দেওয়া রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছে, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই’ তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
তবে মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন এখনো আদালতে দাখিল না হওয়ায় তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতি নিয়ে নতুন করে অপেক্ষা তৈরি হয়েছে। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
তানজিলা / অনলাইন
ডেস্ক / যোগফল.কম