যোগফল প্রতিবেদক:
অভিবাসীদের কষ্টার্জিত রেমিট্যান্স কীভাবে পরিবার ও স্থানীয় অর্থনীতির সহনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী সুযোগ সৃষ্টি এবং দেশের টেকসই উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে—এ নিয়ে রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক বিতর্ক প্রতিযোগিতায় নিজেদের মতামত তুলে ধরেছেন তরুণ বিতার্কিকরা।
শনিবার (২২ আগস্ট) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (এফডিসি) অনুষ্ঠিত এ বিতর্কে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ) ও স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (এসইউবি) তরুণ বিতার্কিকরা অংশ নেন। বিতর্কের বিষয় ছিল—‘অভিবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই)-তে বিনিয়োগই উত্তম কৌশল।’
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) আয়োজিত এবং ডিবেট ফর ডেমোক্র্যাসি (ডিএফডি) পরিচালিত এ ছায়া সংসদ বিতর্কে রেমিট্যান্সের অর্থ আরও কৌশলগতভাবে ব্যবহারের বিভিন্ন দিক উঠে আসে।
তরুণ বিতার্কিকরা বলেন, রেমিট্যান্সের একটি অংশ শিক্ষা, সঞ্চয়, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও এসএমই খাতে কাজে লাগানো গেলে দীর্ঘমেয়াদে পরিবার ও সমাজের জন্য নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের পরিবারগুলোর শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও আবাসনসহ বিভিন্ন প্রয়োজন মেটাতে রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে এর একটি অংশ উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ করা গেলে পারিবারিক ব্যয়ের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি সুফল আনা সম্ভব বলে মত দেন আয়োজকেরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইওএম বাংলাদেশের চিফ অব মিশন ড. লরা টম বনদ বলেন, অভিবাসন নিরাপদ, নিয়মিত ও সুশৃঙ্খল হলে এর সুফল শুধু একজন অভিবাসীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; পরিবার, সমাজ এবং দেশের বৃহত্তর উন্নয়নেও তা পৌঁছাতে পারে।
তিনি বলেন, প্রতিটি রেমিট্যান্স বাংলাদেশি অভিবাসীদের কঠোর পরিশ্রম, সহনশীলতা ও প্রতিশ্রুতির সাক্ষ্য বহন করে। রেমিট্যান্সের একটি অংশ এসএমই খাতে বিনিয়োগ করা হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নতুন সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে।
ডিবেট ফর ডেমোক্র্যাসির (ডিএফডি) চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বিতর্কে অভিবাসীদের দেশের ‘প্রকৃত বীর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন তিনি।
হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করার পাশাপাশি রেমিট্যান্স স্থানীয় পর্যায়ে অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দেশের কর্মক্ষম জনসংখ্যার প্রায় ২৫ শতাংশ অভিবাসনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান পায় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকলে বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার প্রায় ১০ শতাংশ পয়েন্ট বেশি হতে পারত।
ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় সরকারি দল হিসেবে অংশ নেওয়া ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ) বিরোধী দল স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশকে (এসইউবি) পরাজিত করে।
বিতর্ক প্রতিযোগিতাটি মূল্যায়ন করেন চারজন বিচারক। তাঁরা হলেন—অর্থনৈতিক রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি ও দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের বিশেষ প্রতিনিধি দৌলত আক্তার মালা, যমুনা টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার আহমেদ রেজা, বাংলাদেশ ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (ডিক্যাব) সাবেক সভাপতি মাইনুল আলম এবং আইওএম বাংলাদেশের ন্যাশনাল কনসালট্যান্ট (গভর্নমেন্ট লিয়াজোঁ) ড. এস এম মোর্শেদ।
বিতর্কের মাধ্যমে তরুণদের রেমিট্যান্সকে শুধু পারিবারিক ব্যয় মেটানোর অর্থ হিসেবে না দেখে শিক্ষা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, সঞ্চয় ও উৎপাদনশীল বিনিয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সম্ভাবনায় রূপান্তরের বিষয়ে চিন্তা করতে উৎসাহিত করা হয়।
তানজিলা / অনলাইন
ডেস্ক / যোগফল.কম