যোগফল প্রতিবেদক:
দেশের মানুষের চাহিদা পূরণে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদিত মাছের গুণগত মান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
তিনি বলেন, উৎপাদন বাড়াতে গিয়ে কোনোভাবেই গুণগত মানের সঙ্গে আপস করা যাবে না। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের কৃষি ও মৎস্যপণ্যের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে গবেষক, বিজ্ঞানী ও উদ্যোক্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে ফিশটেক বিডি লিমিটেড আয়োজিত ‘অ্যাকুয়াকালচার নলেজ ডে-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে খাদ্য উৎপাদনে বড় ধরনের ঘাটতি নেই। তবে মানসম্মত ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এখন বড় চ্যালেঞ্জ। কৃষিভিত্তিক পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে আরও এগিয়ে নিতে হলে গুণগত মানসম্পন্ন কৃষি ও মৎস্যপণ্য উৎপাদনের কোনো বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে যুক্ত। এই জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী ও স্থিতিশীল করতে পারলে সামগ্রিক অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে। কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্য হতে হবে একদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করা।
গবেষকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, অ্যান্টিবায়োটিক ও ভ্যাকসিনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। মানুষের জন্য নিরাপদ ও মানসম্পন্ন খাদ্য উৎপাদনে এমন কোনো পদ্ধতি গ্রহণ করা উচিত নয়, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
পেস্টিসাইডের ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, মাটি, পানি ও মানুষের জন্য ক্ষতিকর পেস্টিসাইডের ব্যবহার কমাতে সরকার কাজ করছে। মাটি ও পানিদূষণ কমানোর কোনো বিকল্প নেই।
তিনি জানান, দেশের মাটি ও পানিতে হেভি মেটালের উপস্থিতি উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। পানিতে লেড ও আর্সেনিকের মতো ক্ষতিকর উপাদান পাওয়ার পাশাপাশি চালেও হেভি মেটালের উপস্থিতির বিষয়টি সামনে এসেছে। এসব উপাদান মাটি, ভূগর্ভস্থ পানি, সার নাকি পেস্টিসাইড থেকে আসছে—তা চিহ্নিত করতে গবেষণা করা হচ্ছে।
ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমানোর ওপরও গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। দেশের বিভিন্ন এলাকায় পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নদীর মিঠাপানি সেচকাজে ব্যবহার করে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন কমানো বা বন্ধ করা যায় কি না, তা নিয়ে ভাবতে হবে।
কৃষিবিষয়ে পড়াশোনা করা তরুণদের শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, তরুণ উদ্যোক্তাদের সহায়তা করতে সরকার প্রস্তুত।
দেশি জাতের গবাদিপশুর সম্ভাবনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল বিশ্বের অন্যতম ভালো জাত। এর উৎপাদনশীলতা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা রয়েছে। দেশি জাতের এই সম্পদ সংরক্ষণ ও বিকাশে আরও গুরুত্ব দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন এবং মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক। বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের ডেপুটি হেড অব মিশন জন্না ভ্যান ডের লিন্ডেনও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
ফিশটেক বিডি লিমিটেডের চেয়ারম্যান খন্দকার ফরহাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রান্তিক পর্যায়ের খামারি এবং ফিশটেকের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
‘অ্যাকুয়াকালচার নলেজ ডে-২০২৬’ অনুষ্ঠানে আধুনিক মৎস্য প্রযুক্তি, পরিবেশবান্ধব চাষ পদ্ধতি, বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণ, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করা হয়।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম