যোগফল প্রতিবেদক:
মেট্রোরেলের বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে নিজস্ব রাজস্ব বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। এর অংশ হিসেবে উত্তরা উত্তর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত বিভিন্ন স্টেশনে ফুড ভেন্ডিং মেশিন ও রিটেইল শপ স্থাপনের পাশাপাশি ট্রেনের ভেতরে ও বাইরে বিজ্ঞাপনের পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ডিএমটিসিএলের একাধিক দরপত্র বিশ্লেষণে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এসব উদ্যোগে ভাড়ার হার, প্রতিবছর ভাড়া বাড়ানোর শর্ত, নির্দিষ্ট স্টেশন বাদ দেওয়া, যাত্রী চলাচল ও নিরাপত্তা এবং বিজ্ঞাপন নীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।
এ নিয়ে ডিএমটিসিএলের একাধিক বোর্ড সভায় আপত্তিও উঠেছে। দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী, আগের বছরের ভাড়ার ওপর প্রতিবছর ৫ শতাংশ হারে ভাড়া বাড়বে। সংশ্লিষ্টদের মতে, মূল্যস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সময়ে এ ধরনের বাড়তি আর্থিক চাপ ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
এ ছাড়া ভেন্ডিং মেশিনে বিক্রি হওয়া খাদ্যপণ্যের মান, ধরন ও দাম, বিদ্যুৎ সংযোগ ও বিল এবং মেশিনের নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব কার—এসব বিষয়েও স্পষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আগারগাঁও ও কারওয়ান বাজার স্টেশন বাদ দিয়ে বাকি ১৪টি স্টেশনে ৩১টি রিটেইল শপ ভাড়া দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ডিএমটিসিএল। তবে গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এ দুটি স্টেশন বাদ দেওয়ার কারণ জানা যায়নি।
কোন স্টেশনে কতটি দোকান থাকবে, দোকানের আয়তন ও ধরন কী হবে, ভিত্তিমূল্য কত এবং বরাদ্দপ্রাপ্তদের কী শর্ত মানতে হবে—এসব বিষয় নিয়েও ব্যবসায়ীদের আগ্রহ রয়েছে।
মেট্রোরেলের রাজস্ব বাড়াতে বিজ্ঞাপন খাতেও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২৪ সেট ট্রেনের প্রতিটিতে ৬০টি আলোকিত মনিটর ও প্রায় ২৮০টি আলোহীন বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রতিটি ট্রেনের ভেতরে ১০৫ দশমিক ৪৩ বর্গমিটার আলোহীন স্থানে বিজ্ঞাপন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে যাত্রী চলাচলে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
দরপত্রে অংশ নিতে প্রতিষ্ঠানের আগের বছরের টার্নওভার কমপক্ষে ১ কোটি টাকা এবং বিজ্ঞাপন খাতে অন্তত দুই বছরের অভিজ্ঞতা থাকার শর্ত দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এক বছরের ভাড়া এককালীন অগ্রিম পরিশোধের শর্তও রয়েছে।
এসব বিষয়ে ডিএমটিসিএলকে লিখিত প্রশ্ন পাঠানো হলেও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাওগাতুল আলম ও পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) মো. আফতাবুজ্জামান কোনো জবাব দেননি। ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ শরিফীও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার কথা জানিয়ে তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
মেট্রোরেলের বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে নতুন আয়ের পথ তৈরি হতে পারে। তবে ভাড়া, নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা, যাত্রী চলাচল ও বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলোর স্পষ্ট সমাধানও প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তানজিলা / অনলাইন
ডেস্ক / যোগফল.কম