যোগফল প্রতিবেদক:
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক ও তদারকি পদে কর্মরত ব্যক্তিদের ‘শ্রমিক’ হিসেবে গণ্য না করার বিধানের বৈধতা নিয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
রোববার (২৩ আগস্ট ২০২৬) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এসএম ইফতেখার উদ্দিন মাহামুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২(৪৯)(খ) ও ধারা ২(৬৫)-এর সংশ্লিষ্ট শর্ত কেন অসাংবিধানিক ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রিটকারীদের অভিযোগ, শুধু পদবি কিংবা দায়িত্বের ধরন বিবেচনায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক ও তদারকি পদে থাকা কর্মীদের ‘শ্রমিক’ সংজ্ঞার বাইরে রাখা বৈষম্যমূলক। তাদের দাবি, এসব পদে কর্মরত অনেকের প্রতিষ্ঠানের মালিকানা বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা নেই।
রিটে আরও বলা হয়েছে, বর্তমান বিধানের কারণে বিপুলসংখ্যক বেসরকারি কর্মী শ্রম আইনের বিভিন্ন সুরক্ষা, সুবিধা ও আইনি প্রতিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। রিটকারীদের দেওয়া শ্রমশক্তি জরিপের তথ্য অনুযায়ী, এ বিধানের কারণে প্রায় ৬৫ থেকে ৮০ লাখ কর্মী ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।
রিটকারীদের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট বিধান অবৈধ ঘোষণা করা হলে ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক ও তদারকি পদে থাকা অনেক কর্মীর শ্রম আইনের বিভিন্ন সুরক্ষা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এর মধ্যে নির্ধারিত কর্মঘণ্টা ও ওভারটাইম, ছুটি, চাকরিচ্যুতি ও ক্ষতিপূরণ, মাতৃত্বকালীন সুবিধা এবং শ্রম আদালতে প্রতিকার চাওয়ার মতো অধিকারও রয়েছে।
তবে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এসব সুবিধা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয়েছে—এমনটি বলা যাবে না। হাইকোর্টের রুলের পর সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর বিষয়টির ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম