যোগফল প্রতিবেদক:
মাঠে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পরও মাঠের বাইরের নানা ঘটনায় বারবার আলোচনায় আসছে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল। সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক নাইটক্লাব-কাণ্ড যেন দলটির জন্য অস্বস্তিকর এক বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে।
সর্বশেষ ঘটনায় আলোচনায় এসেছেন ইংল্যান্ডের পেসার ব্রাইডন কার্স। গত শনিবার কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে ডার্বিশায়ারের বিপক্ষে ডারহামের হয়ে খেলার পর সতীর্থদের সঙ্গে জয় উদ্যাপন করতে নাইটক্লাবে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে এক ঘটনার পর পুলিশ তাঁকে হাতকড়া পরিয়ে আটক করে। পরে অবশ্য বড় কোনো অভিযোগ ছাড়াই তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঘটনাটি নিয়ে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে। বিষয়টি পরে স্বাধীন ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছেও পাঠানো হয়েছে। এরই মধ্যে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের স্কোয়াড থেকে কার্সকে বাদ দিয়ে তাঁর জায়গায় হ্যাম্পশায়ারের পেসার সনি বেকারকে দলে নেওয়া হয়েছে।
কার্সের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক বেন স্টোকসের উপস্থিতি। গত কয়েক মাসে ইংল্যান্ড দলের ক্রিকেটারদের ঘিরে নাইটক্লাব ও অতিরিক্ত মদ্যপানের অভিযোগ একাধিকবার সামনে এসেছে।
এর আগে নিউজিল্যান্ড সফরে হ্যারি ব্রুক, জ্যাকব বেথেল ও জশ টাংকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। পরে লন্ডনের একটি নাইটক্লাবের ঘটনায় বেন স্টোকস ও গাস অ্যাটকিনসনের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অ্যাশেজের সময় অস্ট্রেলিয়ার নুসায় ইংল্যান্ডের কয়েকজন ক্রিকেটারের অতিরিক্ত মদ্যপানের ঘটনাও ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল।
এসব ঘটনার পর ইংল্যান্ড দলে সান্ধ্যকালীন বিধিনিষেধ বা কারফিউ চালু করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী ঘটনাগুলো দেখিয়েছে, শুধু নিয়ম আর বিধিনিষেধ দিয়ে সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।
সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক মাইকেল ভন মনে করেন, এমন আচরণের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রয়োজন। তাঁর মতে, দলের সুনাম ক্ষুণ্ন করে এমন আচরণ করলে ক্রিকেটারদের বুঝতে হবে এর পরিণতি কী হতে পারে।
নতুন অধিনায়ক জো রুটও ধারাবাহিক এসব ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, মাঠের বাইরের এসব কর্মকাণ্ডের কারণে মাঠের পারফরম্যান্স ও দলের অর্জনও আড়ালে চলে যাচ্ছে। ক্রিকেটারদের মাঠের বাইরেও দায়িত্বশীল ও পরিণত আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে বেন স্টোকসের মতে, বিষয়টি শুধু ইংল্যান্ড দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ক্রিকেটের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে মদ্যপানের একটি সংস্কৃতি জড়িয়ে আছে, যা পেশাদার ক্রিকেটের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তেমনভাবে বদলায়নি।
তবে ক্রিকেটারদের মদ্যপান পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়াকে সমাধান হিসেবে দেখছেন না অনেকে। বরং কখন, কোথায় এবং কতটা মদ্যপান করা উচিত—সে বিষয়ে দায়িত্বশীলতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দেওয়াই বেশি জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।
ইংল্যান্ড দল ইতোমধ্যে কারফিউ, সতর্কবার্তা ও বিভিন্ন বিধিনিষেধের মতো পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু এরপরও যদি একই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটে, তাহলে শুধু শাস্তি নয়, দলের সংস্কৃতি ও ক্রিকেটারদের পেশাদার আচরণ নিয়েও নতুন করে ভাবতে হবে।
নইলে মাঠে যতই সাফল্য আসুক, কিছুদিন পরপর মাঠের বাইরের ‘নাইটক্লাব-কাণ্ড’ই ইংল্যান্ড ক্রিকেটের প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে থাকবে।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম