যোগফল প্রতিবেদক:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করা এক তরুণীকে উদ্ধার করে প্রশংসায় ভাসছেন পুলিশ সদস্য অমিত হাসান। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রায় ৪০ হাত ওপর থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে ওই তরুণীর প্রাণ বাঁচান তিনি।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের শিমরাইল কান্দি এলাকার শেখ হাসিনা সড়কের প্রথম ব্রিজে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, সদর উপজেলার রাধিকা-জগৎসার গ্রামের ওই তরুণীর প্রায় ছয় মাস আগে বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে নারায়ণগঞ্জে বসবাস করলেও দাম্পত্য কলহের কারণে প্রায় তিন মাস আগে বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন তিনি। পরে পরিবারের সঙ্গে শিমরাইল কান্দি এলাকায় বসবাস করছিলেন।
পারিবারিক নানা কারণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে ওই তরুণী নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার সময় পুলিশ সদস্য অমিত হাসান তাঁর চার বন্ধুর সঙ্গে ওই এলাকায় ঘুরতে গিয়েছিলেন। হঠাৎ তাঁরা দেখতে পান, এক তরুণী ব্রিজ থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন। এ সময় তাঁরা স্থানীয়দের সাহায্যের জন্য ডাকাডাকি করলেও উপস্থিত লোকজনের কেউ পানিতে নামতে সাহস করছিলেন না।
পরিস্থিতি বুঝতে পেরে এক মুহূর্ত দেরি না করে নদীতে ঝাঁপ দেন অমিত হাসান। প্রায় ৪০ হাত ওপর থেকে নদীতে পড়ে তিনি সাঁতরে তরুণীর কাছে পৌঁছান এবং তাঁকে উদ্ধার করেন। পরে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে তরুণীকে জীবিত অবস্থায় চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়।
কনস্টেবল অমিত হাসান বলেন, চাকরিজীবনে এটি তাঁর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজগুলোর একটি। তবে ওই মুহূর্তে নিজের জীবনের কথা চিন্তা না করে একজন মানুষের জীবন বাঁচানোই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছিল।
তিনি বলেন, একজন মানুষের জীবন বাঁচাতে পেরেছেন—এটাই তাঁর সবচেয়ে বড় তৃপ্তি। এমন একটি মানবিক কাজে অংশ নিতে পেরে বাংলাদেশ পুলিশের একজন সদস্য হিসেবে তিনি গর্বিত। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা বন্ধুদের সহযোগিতার জন্যও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
অমিত হাসান নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার চরকিং ইউনিয়নের কৃতী সন্তান এবং বাংলাদেশ পুলিশের একজন সদস্য।
বিপদের মুহূর্তে নিজের নিরাপত্তার কথা উপেক্ষা করে তরুণীকে উদ্ধারে তাঁর এই সাহসী উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে। মানবিক এই ভূমিকা মানুষের প্রতি পুলিশের দায়িত্ববোধ ও সহমর্মিতারও একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম