যোগফল প্রতিবেদক:
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে নদীপথে চলাচলকারী নৌযান থেকে টোল আদায় নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই অসন্তোষ বিরাজ করছে। সরকারি নির্ধারিত হারের বাইরে অতিরিক্ত টাকা আদায় এবং রসিদ না দেওয়ার অভিযোগে নৌযান মালিক-শ্রমিকদের মধ্যেও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি এবার উঠে এসেছে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায়।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুনাব আলী।
সভায় তিনি বলেন, যাদুকাটা ও পাটলাই নদীর বিভিন্ন ঘাটে সরকারি নির্ধারিত হারের তুলনায় দুই থেকে তিন গুণ বেশি টাকা আদায় করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে টাকা নেওয়া হলেও দেওয়া হচ্ছে না কোনো রসিদ।
জুনাব আলীর অভিযোগ, যাদুকাটা নদীর ফাজিলপুর এলাকায় বিআইডব্লিউটিএ, খাস কালেকশন ও ফাজিলপুর টোল এবং পাটলাই নদীর শ্রীপুর-কামালপুর এলাকায় বিআইডব্লিউটিএ, খাস কালেকশন ও কুটগাড়ি নামে বিভিন্ন পয়েন্টে টাকা আদায় করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, অতিরিক্ত টোল আদায়ের প্রতিবাদে এর আগে নৌযান মালিক ও শ্রমিকরা আন্দোলন এবং পরিবহন ধর্মঘট পালন করেন। পরে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে নির্ধারিত হারে টোল আদায়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। কয়েকদিন তা মানা হলেও পরে আবারও আগের মতো অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
জুনাব আলী আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের উপস্থিতিতে নির্ধারিত হারে টাকা আদায় করা হয়। কিন্তু পুলিশ চলে আসার পর আবারও অতিরিক্ত টাকা নেওয়া শুরু হয়। এভাবে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।
আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিষয়টি এখন সংসদ সদস্যের ভাবমূর্তির সঙ্গেও জড়িয়ে যাচ্ছে। সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে বিষয়টি সমাধানের কথা বলা হলেও কেন বারবার একই পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তার ভাষ্য, কোথায় গাফিলতি রয়েছে তা বের করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বিএনপি ও সংসদ সদস্যের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
অতিরিক্ত টোল আদায় বন্ধে উপজেলা প্রশাসনকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা ও মোবাইল কোর্ট চালানোর আহ্বান জানান তিনি। কয়েকবার জেল-জরিমানা করা হলে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের প্রবণতা কমে আসবে বলেও মন্তব্য করেন।
সভায় খাস কালেকশনের নামে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে যাদুকাটা ও পাটলাই নদীতে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগও তোলেন জুনাব আলী।
তিনি অভিযোগ করেন, খাস কালেকশনের ক্ষেত্রেও অনেক সময় রসিদ দেওয়া হচ্ছে না। সরকারি নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি টাকা নেওয়ার কারণে নৌযান মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। পাশাপাশি এ ধরনের ঘটনায় প্রশাসনের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সভায় উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান মানিক বলেন, অতিরিক্ত টোল আদায়ের বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রমাণসহ থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে পুলিশ মামলা গ্রহণ করবে। অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যাদুকাটা নদীর ঘাগড়া, ফাজিলপুর ও বিআইডব্লিউটিএ এলাকায় পৃথকভাবে টোল আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। ফাজিলপুর এলাকায় বিআইডব্লিউটিএর জেটি থাকার কথা থাকলেও জেটি না রেখেই টোল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে বিআইডব্লিউটিএর জেটি বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেপুর এলাকায় রয়েছে। গত বছর সেখানে টোল আদায় করা হতো বলে জানা গেছে।
অপরদিকে পাটলাই নদীর কুটগাড়ি, বিআইডব্লিউটিএ, ইউনিয়ন ট্যাক্স ও ডাম্পের বাজার এলাকাতেও পৃথকভাবে টোল আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহরুখ আলম শান্তনু, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান উজ্জ্বল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচএফপিও ডা. নওশাদ আহমেদ, উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী হায়দার, দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী আহমদ মোরাদসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম