যোগফল প্রতিবেদক:
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার নারী ও শিশু হেল্প ডেস্ক থেকে কৌশলে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকেই তাকে ধরতে অভিযান চালাচ্ছিল পুলিশ। প্রায় ৪০ ঘণ্টার অভিযানের পর অবশেষে কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে হত্যা মামলার আসামি মিতু আক্তারকে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে যাত্রাবাড়ী থানার নারী ও শিশু হেল্প ডেস্ক থেকে কৌশলে পালিয়ে যান মিতু। তিনি একটি হত্যা মামলার সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে পুলিশের হেফাজতে ছিলেন।
মিতু পালিয়ে যাওয়ার পর তার সন্ধানে ওয়ারী বিভাগের উপপুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে যাত্রাবাড়ী থানার একটি দল অভিযান শুরু করে। বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানোর পর প্রায় ৪০ ঘণ্টার মধ্যে তাকে কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়।
এদিকে থানার হেফাজত থেকে আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে পুলিশের চার সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তারা হলেন উপপরিদর্শক (এসআই) নাঈম হোসেন এবং কনস্টেবল নিজাম উদ্দিন, লুৎফর রহমান ও রোজিনা আক্তার।
মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ জুলাই রাত ৯টা ৫০ মিনিট থেকে ১৭ জুলাই বেলা সাড়ে ১১টার মধ্যে যেকোনো সময় ব্যবসায়ী সোহেল আহমেদকে (৫৫) যাত্রাবাড়ী থানাধীন শহীদ ফারুক রোডের আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের গলির পাশে ২৩/এ পশ্চিমের নিজ বাসার ছাদের কক্ষে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই মো. মনিরুল ইসলাম মাসুদ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে যাত্রাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
পুলিশ জানায়, ওই মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে মিতু আক্তারকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গত ২৪ আগস্ট মিতুকে তিন দিনের রিমান্ডে যাত্রাবাড়ী থানায় আনা হয়। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ছিল তার রিমান্ডের শেষ দিন। নিয়ম অনুযায়ী ওই দিন দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করার কথা ছিল। এর আগেই সকালে থানার নারী ও শিশু হেল্প ডেস্ক থেকে তিনি পালিয়ে যান।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, মিতু পালিয়ে যাওয়ার পরপরই তাকে গ্রেফতারে অভিযান জোরদার করা হয়। ওয়ারী বিভাগের উপপুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে যাত্রাবাড়ী থানার একটি দল বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। একপর্যায়ে কেরানীগঞ্জ এলাকায় তার অবস্থান শনাক্ত করা হয় এবং শুক্রবার রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
মিতু আক্তারকে গ্রেফতারের পর তাকে আবারও আইনগত প্রক্রিয়ার আওতায় নেওয়া হয়েছে। হত্যা মামলার পাশাপাশি থানা থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাতেও তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা রয়েছে।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম