যোগফল প্রতিবেদক:
চাঁদপুরে প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার পিন্টু দাসের স্ত্রী রিমি ও দুই ছেলে প্রিয়ম ও রুপমকে পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৯ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান।
পুলিশ জানায়, পিন্টু দাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এ কারণে তাদের পিন্টুর পিতার জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পিন্টু দাসের কাছে বিভিন্ন পাওনাদারের প্রায় ২৫ লাখ টাকা পাওনা থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগের পাশাপাশি অন্য কোনো অপরাধের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হয়। তবে সাম্প্রদায়িক নাশকতা বা বড় ধরনের কোনো অপরাধের তথ্য পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
পরে গ্রাহকদের টাকা ও স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগে একজনের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পিন্টু দাসকে প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। শনিবার তাকে চাঁদপুর আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার বাদী রঘুনাথপুর এলাকার মো. মনসুর খানের ছেলে মো. রাসেল খান। মামলার এজাহারে তিনি অভিযোগ করেন, তিনি ও আরও কয়েকজন বিভিন্ন সময়ে পিন্টু দাসের দোকানে স্বর্ণের চেইন, কানের দুল, লকেটসহ বিভিন্ন অলংকার বন্ধক রেখে টাকা নিয়েছিলেন। পরে ঋণের মূল টাকা পরিশোধ করে বন্ধক রাখা স্বর্ণ ফেরত চাইলে পিন্টু দাস টালবাহানা করতে থাকেন। তার দাবি, বর্তমানে পিন্টু দাসের কাছে প্রায় ৮ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার পাওনা রয়েছে।
চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ জানান, শনিবার সকালে রাসেল খান বাদী হয়ে পিন্টু দাসের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে মামলা করেন।
এর আগে গত ২০ আগস্ট থেকে স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ আত্মগোপনে ছিলেন পিন্টু দাস। তার দোকান ও বাসা তালাবদ্ধ থাকায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা সৃষ্টি হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চট্টগ্রামের পটিয়া এলাকায় পরিবারের সদস্যদের অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ। শুক্রবার ভোরে অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম