যোগফল প্রতিবেদক:
চোখের চিকিৎসা শেষে আর বাড়ি ফেরা হলো না বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ি সরকারি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রনজিলা পারভীনের। চিকিৎসা করাতে ঢাকায় গিয়ে সড়কে ছিনতাইয়ের চেষ্টার সময় রিকশা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয়ে মারা যান তিনি। পরে মরদেহ নিয়ে ফিরতে হয়েছে স্বজনদের।
শনিবার (২৯ আগস্ট) ভোরে রাজধানীর সংসদ ভবন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত রনজিলা পারভীন বগুড়া শহরের রহমাননগর এলাকায় স্বামী আব্দুল মতিন ও একমাত্র মেয়ে রাইসা আক্তারকে নিয়ে বসবাস করতেন।
নিহতের স্বামী আব্দুল মতিন জানান, চোখের চিকিৎসার জন্য শুক্রবার রাত ১২টার দিকে বাসে করে বগুড়া থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন তারা। শনিবার ভোরে রিকশায় করে ফার্মগেটের ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে যাওয়ার পথে সংসদ ভবন এলাকায় মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তি রনজিলার হাতে থাকা ব্যাগ ধরে টান দেন।
এ সময় রিকশা থেকে পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান রনজিলা। পরে তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
শনিবার রাতে তার মরদেহ বগুড়ায় পৌঁছায়। রোববার (৩০ আগস্ট) বাদ জোহর বাগবাড়ি সরকারি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বাদ আসর তরফসরতাজ গ্রামে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
দীর্ঘ ৩০ বছরেরও বেশি সময় যে বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন, শেষবারের মতো সেখানেই প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানান সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা। রোববার বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ছিল শোকের পরিবেশ। প্রধান শিক্ষকের চেয়ারটি ফাঁকা পড়ে থাকলেও তাকে ঘিরে সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের স্মৃতি যেন বারবার ফিরে আসছিল।
সহকারী শিক্ষক মেহেনাজ আফরীন ও মাছুমা খাতুন বলেন, রনজিলা পারভীন নিয়মিত সবার আগে বিদ্যালয়ে আসতেন এবং নিজে ক্লাস নিতেন। তিনি শুধু প্রধান শিক্ষকই ছিলেন না, সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকের মতো ছিলেন। তার এমন মৃত্যু তারা মেনে নিতে পারছেন না।
শিক্ষার্থী ইকবাল ও রাকিব জানায়, রনজিলা ম্যাডাম তাদের অত্যন্ত স্নেহ করতেন এবং সহজভাবে পড়া বুঝিয়ে দিতেন।
নিহতের মেয়ে রাইসা আক্তার বলেন, ‘আমার মতো আর কেউ যেন এভাবে মা-হারা না হয়। আমি মায়ের মৃত্যুর ঘটনার বিচার চাই।’
নিহতের স্বামীও এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, রনজিলা পারভীন ১৯৮৮ সালের জানুয়ারিতে সহকারী শিক্ষক হিসেবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেন। দীর্ঘ চাকরিজীবনে পদোন্নতি পেয়ে তিনি বাগবাড়ি সরকারি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম