যোগফল প্রতিবেদক:
নরসিংদীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধ দমনে এক সপ্তাহব্যাপী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২৩৭ জনকে গ্রেফতার ও আটক করেছে জেলা পুলিশ। এ সময় বিপুল পরিমাণ মাদক, অস্ত্র ও চোরাচালানের অবৈধ পণ্য উদ্ধার করা হয়েছে।
গত ১৮ থেকে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত নরসিংদী জেলা পুলিশের নেতৃত্বে র্যাব, এপিবিএন ও আরআরএফ পুলিশের সহযোগিতায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে ৩০৫টি ওয়ারেন্ট নিষ্পত্তি এবং ৮৮টি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।
২৫ আগস্ট বিকেলে নরসিংদী পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল ফারুক এসব তথ্য জানান।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে ৮ হাজার ৬৩৩ পিস ইয়াবা, প্রায় ২৪৯ কেজি গাঁজা, ৪৯ বোতল ফেনসিডিল এবং ৮ বোতল ESKUF কফ সিরাপসহ বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়।
অস্ত্র উদ্ধারের তালিকায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি একটি বিদেশি পিস্তল, একটি এলজি, ১৫ রাউন্ড গুলি ও কার্তুজসহ বিভিন্ন ধরনের দেশীয় ধারালো ও আঘাতকারী অস্ত্র। এছাড়া দুটি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, একটি ঢাল, ১৪টি পটকা ও আনুমানিক ২০০টি মার্বেল উদ্ধার করা হয়েছে।
চোরাচালানবিরোধী অভিযানে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ৬৭ হাজার ১০০ টাকা মূল্যের অবৈধ ভারতীয় শাড়ি, সিগারেটসহ বিভিন্ন পণ্য জব্দ করা হয়। এসব পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত একটি কাভার্ড ভ্যানও জব্দ করেছে পুলিশ।
রায়পুরার উত্তর বাখরনগর, চর আড়ালিয়া, আমিরগঞ্জ ও মেঘনা নদীর দুর্গম চরাঞ্চলে পরিচালিত যৌথ অভিযানে ২২৪ কেজি গাঁজা, বিদেশি পিস্তল, এলজি, গুলি-কার্তুজ, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
এদিকে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) শিবপুরের দক্ষিণ কারারচর এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ৩৭ হাজার ১০০ টাকা মূল্যের অবৈধ ভারতীয় পণ্যসহ একটি কাভার্ড ভ্যান জব্দ করে। এ ঘটনায় ভ্যানটির চালককে আটক করা হয়। পৃথক অভিযানে ২৪ কেজি গাঁজা ও মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকারসহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়।
মনোহরদীর কীর্তিবাসদী গ্রামে এক যুবক হত্যার ঘটনায়ও দ্রুত ব্যবস্থা নেয় পুলিশ। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিহতের বাবা আতাউর রহমান মিস্ত্রিকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি কুড়াল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
অন্যদিকে, ট্রাফিক বিভাগ জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিশেষ চেকপোস্ট পরিচালনা করে ১ হাজার ৮৬৬টি যানবাহন তল্লাশি করে। এ সময় ৩৫টি মোটরসাইকেল আটক এবং যানবাহন সংক্রান্ত ৩০১টি মামলা করা হয়। এসব মামলায় মোট ৯ লাখ ২৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল ফারুক বলেন, অবৈধ অস্ত্র, মাদক, চোরাচালান ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অপরাধী ও অপরাধীচক্রের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি, অভিযান এবং আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত ও জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতেও আরও ব্যাপক সমন্বিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম