যোগফল প্রতিবেদক:
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নে ফারুক নামে এক ব্যক্তিকে ঘিরে ফিজিওথেরাপি সেবা ও অনলাইন বিনিয়োগ নিয়ে পৃথক অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের একাংশ তাঁর ফিজিওথেরাপি চেম্বার পরিচালনার যোগ্যতা ও অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শিপিং প্রতিষ্ঠান MSC-এর নাম ব্যবহার করে অনলাইনে বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগও করেছেন কয়েকজন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শ্রীপুরের নলগাঁও গ্রামের ফারুক রাজাবাড়ীতে একটি চেম্বার পরিচালনা করে নিজেকে ফিজিওথেরাপিস্ট হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন এবং প্যারালাইসিসসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের থেরাপি দিচ্ছেন। স্থানীয়দের দাবি, ফারুক নিজেই ছয় মাসের ফিজিওথেরাপি প্রশিক্ষণ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
এ কারণে রোগীদের ফিজিওথেরাপি দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রশিক্ষণ, সনদ ও পেশাগত নিবন্ধন রয়েছে কি না—তা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। বিশেষ করে প্যারালাইসিস রোগীদের মতো জটিল শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের থেরাপি দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পেশাগত যোগ্যতা ও দক্ষতা রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি তাদের।
স্থানীয়রা আরও জানান, ফারুকের সহযোগী হিসেবে হেনা আক্তার হোসেন নামে এক নারী কাজ করছেন। তাঁর বাড়ি রাজাবাড়ী ইউনিয়নের গজারিয়া গ্রামে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনিও ফারুকের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং রোগীদের ফিজিওথেরাপি কার্যক্রমে সহযোগিতা করছেন। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রশিক্ষণ ও পেশাগত নিবন্ধন নিয়েও যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।
ফারুককে ঘিরে দ্বিতীয় অভিযোগটি অনলাইন বিনিয়োগকে কেন্দ্র করে। অভিযোগকারীদের দাবি, আন্তর্জাতিক শিপিং প্রতিষ্ঠান MSC-এর নাম ব্যবহার করে কনটেইনার লিজ ও বিনিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়। নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করলে নির্দিষ্ট সময় পর লাভ দেওয়ার আশ্বাস দেখিয়ে রাজাবাড়ী ইউনিয়নের দলজোড় গ্রামসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগকারীদের মধ্যে কয়েকজন নারীও রয়েছেন। তাঁদের দাবি, আন্তর্জাতিক একটি প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করায় তারা কার্যক্রমটিকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করে এতে অর্থ বিনিয়োগ করেন।
কয়েকজন অভিযোগকারীর দাবি, বিভিন্ন সময়ে বিনিয়োগের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। তাঁদের ধারণা, মোট অর্থের পরিমাণ কোটি টাকার কাছাকাছি বা তারও বেশি হতে পারে। তবে মোট কতজন বিনিয়োগ করেছেন এবং কত টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে, তা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগকারীরা আরও জানান, কিছুদিন অনলাইন কার্যক্রম চলার পর হঠাৎ সংশ্লিষ্ট অ্যাপ ও বিভিন্ন অনলাইন গ্রুপের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এরপর অনেক বিনিয়োগকারী অ্যাপটিতে প্রবেশ করতে পারছেন না এবং বিনিয়োগ করা অর্থ উত্তোলনেও সমস্যার মুখে পড়েছেন বলে দাবি করেছেন।
দলজোড় গ্রামের কয়েকজন নারী বলেন, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের নাম ও লাভের আশ্বাসের কারণে তারা কার্যক্রমটিকে বৈধ ও নিরাপদ মনে করেছিলেন। পরে অ্যাপ ও অনলাইন গ্রুপ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিনিয়োগ করা অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
তবে MSC-এর নাম ব্যবহার করে পরিচালিত কোনো অনলাইন বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদিত কি না, তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। শুধু কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করলেই সেটি ওই প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত কার্যক্রম—এমনটি নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিযোগকারীরা বলছেন, বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে ফিজিওথেরাপি কার্যক্রমের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও অনুমোদন রয়েছে কি না এবং অনলাইন বিনিয়োগের নামে প্রকৃতপক্ষে কত টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যেতে পারে।
তারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, জেলা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ফিজিওথেরাপি কার্যক্রমটি যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি অনলাইন বিনিয়োগের অভিযোগের বিষয়েও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
তাদের দাবি, তদন্তে কোনো অনিয়ম বা প্রতারণার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
তবে ফারুকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো এখনো তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে ফারুকের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যথাযথভাবে সংযোজন করা হবে।
অভিযোগকারী ও স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম