যোগফল প্রতিবেদক:
ইরানের লারাক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর পাল্টা জবাব দিয়েছে তেহরান। জর্ডানে থাকা দুটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। এ ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়ার পাশাপাশি সংঘাত আঞ্চলিক পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য স্টাডিজ প্রোগ্রামের পরিচালক সিনা আজোদি আলজাজিরাকে বলেছেন, পরিস্থিতি আরও কতটা উত্তপ্ত হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।
লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলার পর জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে সতর্কবার্তা হিসেবেও দেখছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ইরানে হামলা চালালে তেহরানও পাল্টা জবাব দেওয়ার পথে যেতে পারে।
সিনা আজোদি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবার ইরানের ওপর হামলা চালায়, তাহলে তেহরানের সামনে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখানো ছাড়া খুব বেশি বিকল্প নাও থাকতে পারে। এতে পরিস্থিতি ফের বড় ধরনের সামরিক সংঘাতে রূপ নেওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
এর আগে লারাক দ্বীপে হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) মাইন পাতা সক্ষমতা থেকে ‘আসন্ন হুমকি’ তৈরি হওয়ায় সেখানে সীমিত ও নির্ভুল অভিযান চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন হামলাকে ‘আগ্রাসন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ইরান। এর পরপরই জর্ডানে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করে তেহরান।
বিশ্লেষকদের মতে, এখন যুক্তরাষ্ট্র কী পদক্ষেপ নেয়, তার ওপরই অনেকটা নির্ভর করছে পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপথ। ওয়াশিংটন নতুন করে সামরিক অভিযান চালালে ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়ে বড় ধরনের সামরিক লড়াইয়ে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম