যোগফল প্রতিবেদক:
একটি কার্যকর ও সুস্থ গণতান্ত্রিক সমাজে স্বাধীন, বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার গুরুত্ব অপরিসীম। জনগণের সামনে সঠিক তথ্য তুলে ধরার পাশাপাশি রাষ্ট্র, সমাজ ও মানুষের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেন সাংবাদিকরা। তাই সাংবাদিকতাকে অনেক সময় সমাজের ‘চতুর্থ স্তম্ভ’ হিসেবেও বিবেচনা করা হয়।
সাংবাদিকতার মূল দায়িত্ব হলো কোনো ঘটনা বা বিষয়ে যাচাই করা তথ্য নিরপেক্ষভাবে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া। দ্রুত সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করাও একজন সাংবাদিকের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। গুজব, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচারের বিপরীতে নির্ভরযোগ্য তথ্য তুলে ধরার মাধ্যমে সাংবাদিকরা জনমত গঠনে ভূমিকা রাখেন।
সমাজে অন্যায়, অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো বিষয়গুলোও সাংবাদিকতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও দায়িত্বশীল প্রশ্নের মাধ্যমে বিভিন্ন অনিয়ম সামনে আনা এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার ক্ষেত্রে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
একই সঙ্গে সমাজের পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সমস্যাগুলো তুলে ধরাও সাংবাদিকদের নৈতিক দায়িত্বের অংশ। দারিদ্র্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারী ও শিশুর অধিকার, পরিবেশসহ নানা সামাজিক সমস্যা সংবাদমাধ্যমে উঠে এলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
জনসচেতনতা তৈরিতেও সাংবাদিকতার ভূমিকা রয়েছে। নাগরিক অধিকার, আইন-কানুন, নির্বাচন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা কিংবা দুর্যোগ মোকাবিলার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সঠিক তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়ে সাংবাদিকরা সচেতন নাগরিক সমাজ গঠনে সহায়তা করেন।
তবে এসব দায়িত্ব পালনে সাংবাদিকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পেশাগত নৈতিকতা ও নিরপেক্ষতা। কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠীর প্রতি পক্ষপাত না করে তথ্য যাচাই করা, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য নেওয়া এবং ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সংবাদ পরিবেশন করা একজন দায়িত্বশীল সাংবাদিকের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
সাংবাদিকরা মূলত সমাজের দর্পণের মতো কাজ করেন। সমাজের ইতিবাচক দিক যেমন তুলে ধরেন, তেমনি অনিয়ম ও অসংগতিও মানুষের সামনে নিয়ে আসেন। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো আরও জবাবদিহিমূলক হতে পারে এবং নীতিনির্ধারকদের কাছেও বাস্তব পরিস্থিতির চিত্র পৌঁছে যায়।
ডিজিটাল গণমাধ্যমের দ্রুত বিস্তারের এই সময়ে সাংবাদিকদের দায়িত্ব আরও বেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য ছড়িয়ে পড়ার গতি বাড়লেও ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। ফলে সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই, উৎসের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করা এবং দায়িত্বশীল ভাষা ব্যবহার এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ।
সত্য, ন্যায় ও জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করাই একজন সাংবাদিকের প্রকৃত সার্থকতা। সাহস, সততা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে সাংবাদিকতা মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং একটি সচেতন সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম