যোগফল প্রতিবেদক:
কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দক্ষতা উন্নয়ন ও টেকসই জীবিকার সুযোগ তৈরিতে কারিগরি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি এবং আত্মনির্ভরতা তৈরির লক্ষ্যে ঢাকাস্থ চায়না দূতাবাসের সহযোগিতায় ইমপ্যাক্ট ইনিশিয়েটিভের উদ্যোগে উখিয়ার ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়।
‘Sustainable Opportunities for Livelihoods, Advancement and Resilience (SOLAR)’ শীর্ষক প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয় সোমবার (৩১ আগস্ট) ক্যাম্পের মাল্টিপারপাস বিল্ডিংয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ক্যাম্প-ইন-চার্জ ও উপসচিব মো. শরিফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইমপ্যাক্ট ইনিশিয়েটিভের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এনায়েত হোসেন।
SOLAR কার্যক্রমের আওতায় ক্যাম্পের ৩২৫ জন আগ্রহী প্রশিক্ষণার্থীকে বিভিন্ন কারিগরি ও পেশাভিত্তিক বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণের বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে টেইলারিং অ্যান্ড ড্রেস মেকিং, ব্লক-বাটিক, মোবাইল ফোন সার্ভিসিং, গ্যাস বার্নার রিপেয়ারিং এবং ক্লাইমেট-স্মার্ট এগ্রিকালচার।
এ ছাড়া আরও ৬৭৫ জনকে সফট স্কিল প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এ প্রশিক্ষণে যোগাযোগ দক্ষতা, দলগত কাজ, সমস্যা সমাধান, কর্মক্ষেত্রে আচরণসহ প্রয়োজনীয় জীবন ও কর্মদক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মানবিক সহায়তার পাশাপাশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দক্ষতা উন্নয়ন ও জীবিকাভিত্তিক প্রশিক্ষণ তাদের আত্মনির্ভরতা ও সহনশীলতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীরা ভবিষ্যতে বিভিন্ন আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন।
প্রধান অতিথি মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যৎ জীবিকার জন্য তাদের প্রস্তুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাস্তবমুখী এ ধরনের উদ্যোগ তাদের আত্মনির্ভরতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
ইমপ্যাক্ট ইনিশিয়েটিভের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এনায়েত হোসেন বলেন, চায়না দূতাবাসের সহযোগিতায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য বাস্তবমুখী দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। SOLAR কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের এমন দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যা তাদের জীবিকা, আত্মনির্ভরতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বাড়াতে সহায়তা করবে।
উদ্যোক্তারা জানান, SOLAR কার্যক্রমের মাধ্যমে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দক্ষতা, জীবিকা ও সহনশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের আরও আত্মনির্ভর করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করা হবে।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম