যোগফল প্রতিবেদক:
দুই মাসের মধ্যে ৫০–৭০ কোটি টাকা পরিশোধের আহ্বান
ডার্ড গ্রুপের পাঁচটি প্রতিষ্ঠান বন্ধের প্রায় তিন বছর পেরিয়ে গেলেও শ্রমিক-কর্মচারীদের পুরো পাওনা পরিশোধ হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরা। তাদের দাবি, বর্তমানে প্রায় ৫০ থেকে ৭০ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে।
শ্রমিকদের ভাষ্য, ২০২৩ সালের ২২ নভেম্বর ডার্ড গ্রুপের পাঁচটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। এর কয়েক দিন পর, ২৮ নভেম্বর সরকার, মালিকপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা চুক্তি হয়। তবে চুক্তি অনুযায়ী এখনো শ্রমিকদের সম্পূর্ণ পাওনা পরিশোধ করা হয়নি।
কারখানা বন্ধের পর কিছু পাওনা পরিশোধ করা হলেও বড় অঙ্কের অর্থ এখনো বকেয়া রয়েছে বলে দাবি শ্রমিকদের।
পাওনা পরিশোধের জন্য সরকার ডার্ড গ্রুপকে ১৩ কোটি টাকা ঋণ সহায়তা দিয়েছিল বলেও জানান শ্রমিকরা। তাদের অভিযোগ, ওই অর্থও যথাযথভাবে ও স্বচ্ছতার সঙ্গে বণ্টন করা হয়নি। এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশের পাশাপাশি অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে শ্রমিকদের পাওনা আদায়ের বিষয়টি হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে। মালিকপক্ষের করা একটি রিট মামলায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরা পক্ষভুক্ত হয়েছেন। চলমান বিচারিক প্রক্রিয়ায় তাদের ন্যায্য পাওনা ও অধিকার নিশ্চিত হবে বলে আশা করছেন তারা।
শ্রমিকরা দাবি করেছেন, ডার্ড গ্রুপের মালিকপক্ষের নামে থাকা সম্পদ ও সম্পত্তি আইনগত প্রক্রিয়ায় শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এরপর এসব সম্পদ বিক্রি করে পাওয়া অর্থ থেকে শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধের ব্যবস্থা করতে হবে।
তাদের জোর দাবি, আগামী দুই মাসের মধ্যে অবশিষ্ট ৫০ থেকে ৭০ কোটি টাকা সম্পূর্ণ পরিশোধ করতে হবে। এজন্য সরকারের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন তারা।
শ্রমিকদের ভাষ্য, তারা কোনো দয়া বা অনুদান চান না; দীর্ঘদিনের ন্যায্য পাওনা চান। তাই আর কোনো দীর্ঘসূত্রতা না করে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তাদের পাওনা পরিশোধের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম