যোগফল প্রতিবেদক:
ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ ফুটবল লিগে এবারের গ্রীষ্মকালীন দলবদলে মোট ১ হাজার ৪৩৭টি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। সব মিলিয়ে খেলোয়াড় কিনতে ক্লাবগুলোর খরচ হয়েছে প্রায় ৬৫০ কোটি পাউন্ড, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ১ লাখ ৭ হাজার ৭৪২ কোটি টাকার বেশি।
বাংলাদেশ সময় বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টায় শেষ হয়েছে ইউরোপের গ্রীষ্মকালীন দলবদলের সময়সীমা। আর্থিক হিসাবে এবারও সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করেছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো। তাদের মোট খরচ দাঁড়িয়েছে ৩৪৬ কোটি পাউন্ডে, যা লিগটির ইতিহাসে এক মৌসুমের গ্রীষ্মকালীন দলবদলে নতুন রেকর্ড।
শেষ দিনে এভারটন থেকে সেনেগালিজ উইঙ্গার ইলিমান এনদিয়ায়েকে ৬ কোটি পাউন্ডে দলে ভেড়ায় ম্যানচেস্টার সিটি। তার দলবদলের পরই প্রিমিয়ার লিগের মোট খরচ গত মৌসুমের ৩১৪ কোটি পাউন্ডের রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। গতবারই প্রথমবারের মতো দলবদলে ৩০০ কোটি পাউন্ডের বেশি খরচ করেছিল লিগটির ক্লাবগুলো।
তবে শেষ দিনের সবচেয়ে বড় চমক আসে এনজো ফার্নান্দেজকে ঘিরে। চেলসি থেকে আর্জেন্টাইন এই মিডফিল্ডারকে ১২ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডে দলে নেয় ম্যানচেস্টার সিটি। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৭১ কোটি টাকা।
এই দলবদলের মাধ্যমে ব্রিটিশ ফুটবলে সবচেয়ে দামি চুক্তির রেকর্ডে যৌথভাবে উঠে এসেছেন ফার্নান্দেজ। গত মৌসুমের গ্রীষ্মকালীন দলবদলের শেষ দিনে নিউক্যাসল ইউনাইটেড থেকে একই দামে আলেকসান্দার ইসাককে কিনেছিল লিভারপুল।
অথচ ২০২৩ সালে বেনফিকা থেকে তৎকালীন ব্রিটিশ রেকর্ড ১০ কোটি ৭ লাখ পাউন্ডে চেলসিতে যোগ দিয়েছিলেন ফার্নান্দেজ। এবার সেই রেকর্ডের সমান দামে আবারও দলবদল করলেন তিনি।
দলবদলের শেষ দিনেই প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো খেলোয়াড় কেনায় খরচ করেছে ৪৭ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড। গত মৌসুমের শেষ দিনে খরচ হয়েছিল ৩৯ কোটি ১০ লাখ পাউন্ড। অর্থাৎ শেষ দিনের ব্যয়েও আগের মৌসুমকে ছাড়িয়ে গেছে ইংলিশ ক্লাবগুলো।
ফুটবলট্রান্সফার্স ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা পল ম্যাকডোনাল্ডের মতে, মাত্র পাঁচ বছর আগে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলোর গ্রীষ্মকালীন দলবদলে সম্মিলিত খরচ ছিল ১১৩ কোটি পাউন্ড। এবার সেই অঙ্ক কয়েক গুণ বেড়েছে।
এবারের দলবদলে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ১০টি চুক্তির তিনটিই হয়েছে প্রিমিয়ার লিগে। শুধু তাই নয়, লিগটির ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল পাঁচটি চুক্তির চারটিই সম্পন্ন হয়েছে এবারের গ্রীষ্মকালীন দলবদলে।
ফার্নান্দেজের ১২ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডের চুক্তির আগে ম্যানচেস্টার সিটি ১১ কোটি ৬০ লাখ পাউন্ডে নটিংহাম ফরেস্টের মিডফিল্ডার এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে দলে নেয়। অ্যাস্টন ভিলা থেকে ১১ কোটি ৭০ লাখ পাউন্ডে মরগান রজার্সকে কিনেছে চেলসি।
এদিকে পিএসজি থেকে ব্র্যাডলি বারকোলাকে দলে নিতে লিভারপুল খরচ করেছে ১০ কোটি ৬০ লাখ পাউন্ড। বিভিন্ন শর্ত পূরণ হলে এই চুক্তির মূল্য বেড়ে ১২ কোটি ৩০ লাখ পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে।
প্রিমিয়ার লিগের বাইরে ৬ কোটি পাউন্ডের বেশি মূল্যের দলবদল হয়েছে মাত্র দুটি। এর মধ্যে রিয়াল মাদ্রিদে ইয়ান দিওমান্দের যোগদান এবং নিউক্যাসল থেকে বার্সেলোনায় অ্যান্টনি গর্ডনের দলবদল রয়েছে।
এবারের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ২০টি দলবদলের মধ্যে মাত্র ছয়টি হয়েছে প্রিমিয়ার লিগের বাইরে। এমনকি প্রিমিয়ার লিগে ওঠা ইপসউইচ টাউন খেলোয়াড় কেনায় যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছে, তা বার্সেলোনা, এসি মিলান, জুভেন্টাস ও বর্তমান ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন পিএসজির মতো ক্লাবগুলোর চেয়েও বেশি।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের হিসাবে, এবার অন্তত ১০ কোটি ইউরো মূল্যে ছয়জন খেলোয়াড় বিক্রি হয়েছেন। এর মধ্যে পাঁচজনই প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবের সঙ্গে জড়িত। বাকি একজন ইয়ান দিওমান্দে, যিনি রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিয়েছেন।
এর আগে ২০১৭-১৮, ২০১৯-২০ ও ২০২৩-২৪ মৌসুমে সর্বোচ্চ তিনজন করে খেলোয়াড়কে ১০ কোটি ইউরো বা তার বেশি দামে বিক্রি করা হয়েছিল।
এবারের দলবদলে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। এনজো ফার্নান্দেজকে দলে ভেড়ানোর পর তাদের মোট খরচ দাঁড়িয়েছে ৪৫ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ডে।
এক মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের কোনো ক্লাবের দলবদলে এত বেশি অর্থ খরচের নজির আগে ছিল না। গত গ্রীষ্মে লিভারপুলের করা ৪১ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডের রেকর্ড এবার ভেঙে দিয়েছে সিটি।
তবে খেলোয়াড় কেনায় বিপুল অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি বিক্রি থেকেও বড় অঙ্কের আয় করেছে ক্লাবটি। খেলোয়াড় বিক্রি করে তাদের আয় হয়েছে প্রায় ৩০ কোটি ৪০ লাখ পাউন্ড।
খরচের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চেলসি। খেলোয়াড় কিনতে ক্লাবটি ব্যয় করেছে ৩৪ কোটি ৯০ লাখ পাউন্ড। বিপরীতে খেলোয়াড় বিক্রি করে আয় করেছে ৩৮ কোটি ২০ লাখ পাউন্ড। ফলে দলবদল শেষে চেলসির নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ পাউন্ড।
তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে টটেনহাম হটস্পার। খেলোয়াড় কিনতে ক্লাবটির মোট ব্যয় হয়েছে ৩০ কোটি ২ লাখ পাউন্ড।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম