যোগফল প্রতিবেদক:
বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি রান্নাঘরেই আলুর ব্যবহার রয়েছে। ভর্তা, তরকারি, ভাজি কিংবা বিভিন্ন নাশতায় আলু খাওয়া হয় নানা উপায়ে। তবে ডায়াবেটিস থাকলে আলু খাওয়া উচিত কি না, তা নিয়ে অনেকের মধ্যেই রয়েছে দ্বিধা।
পুষ্টিবিদ অমিতা গাদরের মতে, ডায়াবেটিস থাকলেই খাদ্যতালিকা থেকে আলু পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে আলুতে থাকা স্টার্চ শরীরে দ্রুত ভেঙে গ্লুকোজে পরিণত হতে পারে। ফলে বেশি পরিমাণে আলু খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়তে পারে। তাই পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে শুধু আলুর পরিমাণ নয়, রান্নার পদ্ধতিও গুরুত্বপূর্ণ। সেদ্ধ, বেক বা রোস্ট করা আলু অতিরিক্ত তেলে ভাজা আলুর তুলনায় ভালো বিকল্প। বিশেষ করে ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের মতো খাবারে অতিরিক্ত তেল ও ক্যালোরি যুক্ত হয়, তাই এগুলো এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।
তবে সেদ্ধ বা বেক করা আলু খেলেই রক্তে শর্করার ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না—এমনটি নয়। কারণ আলুর কার্বোহাইড্রেট ও স্টার্চ শরীরে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়াতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আলু একা না খেয়ে এর সঙ্গে প্রোটিন ও নন-স্টার্চি সবজি রাখার পরামর্শ দেন। যেমন—পরিমাণমতো আলুর সঙ্গে ডিম, মাছ, মুরগি বা ডাল এবং বিভিন্ন সবজি খাওয়া যেতে পারে। এতে পুরো খাবারের পুষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হয়।
বিভিন্ন ধরনের আলুর মধ্যে পুষ্টিগুণ ও স্টার্চের পরিমাণে পার্থক্য রয়েছে। বিশেষজ্ঞের মতে, মিষ্টি আলু এবং কিছু ওয়াক্সি ধরনের আলু, যেমন কারিসমা ও নিকোলা, সাধারণ সাদা আলুর কিছু জাতের তুলনায় তুলনামূলক ভালো বিকল্প হতে পারে। এসব আলুর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কিছু ক্ষেত্রে কম হতে পারে।
তাই ডায়াবেটিস থাকলেই আলু সম্পূর্ণ বাদ দিতে হবে—এমন নয়। বরং কতটা আলু খাওয়া হচ্ছে, কীভাবে রান্না করা হচ্ছে এবং খাবারের সঙ্গে অন্য কী কী উপাদান রাখা হচ্ছে, সেদিকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
ব্যক্তিভেদে খাদ্যাভ্যাস ও রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণ ভিন্ন হওয়ায় ডায়াবেটিস থাকলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে খাদ্যতালিকা নির্ধারণ করাই সবচেয়ে ভালো।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম