যোগফল প্রতিবেদক:
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের বিভিন্ন থানা ও সরকারি বাহিনীর কাছ থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করতে যাচ্ছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সুন্দরবনসংক্রান্ত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান র্যাবের মহাপরিচালক মো. আহসান হাবীব পলাশ।
তিনি বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী লুণ্ঠিত সরকারি অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে। এসব অস্ত্র উদ্ধারে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করে তিনি তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানান। তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখার পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে পুরস্কারের ব্যবস্থার কথাও জানান তিনি।
র্যাব মহাপরিচালক বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনায় দেশের বিভিন্ন থানা ও সরকারি বাহিনীর কাছ থেকে যেসব অস্ত্র লুট হয়েছিল, সেগুলো উদ্ধারে র্যাবকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করা হবে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল ইফতেখার আলম এবং র্যাব-৬ খুলনার অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে চলমান অভিযানে বড় ধরনের সাফল্যের কথা জানিয়েছে র্যাব। গত ৩১ আগস্ট সুন্দরবনে সক্রিয় পাঁচটি জলদস্যু বাহিনীর ৫৯ সদস্য আত্মসমর্পণ করেন।
এরপর গত তিন দিনে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৫৯টি অস্ত্র, ৫৪১ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৪টি খালি কার্তুজ ও সাতটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানায় র্যাব।
উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে চারটি শর্টগান, ৪৭টি ওয়ান শুটারগান, চারটি পাইপগান, তিনটি এয়ারগান ও একটি পয়েন্ট ২২ বোর রাইফেল।
র্যাব মহাপরিচালক জানান, সুন্দরবনে এখনো চার থেকে পাঁচটি দস্যু বাহিনী সক্রিয় রয়েছে। তাদের আত্মসমর্পণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। আত্মসমর্পণ না করলে তাদের বিরুদ্ধে আরও ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করা হবে।
গত ২ মার্চ থেকে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ও নিরাপদ করতে ‘অপারেশন রি-স্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ পরিচালনা করছে র্যাব। বনজীবী ও পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং উপকূলীয় মানুষের জীবন-জীবিকা সুরক্ষায় এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম