যোগফল প্রতিবেদক:
কৌশলগত হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় সৌদি মালিকানাধীন একটি সুপারট্যাংকারে ইরানি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সৌদি আরব। সোমবার রাতে চালানো ওই হামলায় জাহাজে থাকা দুই ফিলিপিনো নাবিক নিহত হয়েছেন।
বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সৌদি জাতীয় শিপিং কোম্পানি ‘বাহরি’ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের তেলবাহী বিশাল জাহাজ ‘সিডর’ সোমবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১১টার দিকে হরমুজ প্রণালিতে একটি নিরাপত্তা সংকটের মুখে পড়ে।
সামুদ্রিক নিরাপত্তাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘মেরিস্কর’-এর তথ্য অনুযায়ী, ওমানের মুসান্দাম উপদ্বীপের কাছে অজ্ঞাত প্রক্ষেপক বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ‘সিডর’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রায় একই সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ার মালিকানাধীন ‘সেনেগাল প্রস্পারিটি’ নামের আরেকটি সুপারট্যাংকারও একই এলাকায় হামলার শিকার হয়।
জানা গেছে, দুটি জাহাজেই প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল করে সৌদি অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হচ্ছিল।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। রিয়াদ বলেছে, আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারে ইরান সরাসরি হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতে সাম্প্রতিক ইরানি হামলারও কঠোর সমালোচনা করেছে সৌদি আরব।
তবে সৌদি আরবের অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইরান। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্ররোচনায় বেআইনি রুট ব্যবহার করতে গিয়ে মাইনের আঘাতে দুটি তেলের ট্যাংকারে আগুন ধরে যায়।
এদিকে, এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু হয়েছে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মার্কিন বিমান হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত এবং ১০৮ জন আহত হয়েছেন।
দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় সিরিক শহরে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলায় দুই শিশুসহ চারজন নিহত হওয়ার পর ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধাপরাধের’ অভিযোগ তুলেছে তেহরান।
বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি পরিবহনকারী গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বাণিজ্যিক জাহাজে দফায় দফায় হামলা ও পাল্টা অবরোধের ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
তানজিলা / অনলাইন
ডেস্ক / যোগফল.কম