যোগফল প্রতিবেদক:
প্রযুক্তির যুগে সফল হতে শহর কিংবা রাজধানীতে থাকা জরুরি নয়—ইচ্ছা, পরিশ্রম ও সঠিকভাবে প্রযুক্তির ব্যবহার থাকলে প্রত্যন্ত গ্রাম থেকেও তৈরি করা যায় নিজের পরিচিতি। এমনই উদাহরণ যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার ধুপখালী গ্রামের আল আমিন হাসান জনি।
গ্রামের মাটির ঘরে বসে একটি স্মার্টফোনকে পুঁজি করে কনটেন্ট তৈরি করছেন জনি। তার তৈরি গ্রামীণ জীবনযাপন ও কমেডি স্কিটভিত্তিক ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। নিজের সাফল্যের মাধ্যমে তিনি পরিচিত হয়েছেন এলাকার বাইরেও।
২০১৬ সালের শেষ দিকে এবং পরবর্তীতে ২০১৯ সালের করোনা পরিস্থিতিতে হাতে থাকা অবসর সময় কাজে লাগানোর চিন্তা থেকে ভিডিও তৈরি শুরু করেন জনি। শুরুতে গ্রামের দৈনন্দিন জীবন, মাঠের কাজ, পুকুরে মাছ ধরা, গ্রামীণ রান্না ও বিভিন্ন মজার স্কিট নিয়ে টিকটক ও ফেসবুকে ভিডিও প্রকাশ করতেন।
শুরুতে তেমন সাড়া না পেলেও নিয়মিত কনটেন্ট তৈরি ও প্রকাশ চালিয়ে যান তিনি। একপর্যায়ে তার ‘গ্রামীণ লাইফস্টাইল’ ও ‘কমেডি স্কিট’ভিত্তিক ভিডিও দর্শকদের নজর কাড়তে শুরু করে। বিশেষ করে মায়ের রান্না, নানী-দাদীর গল্প এবং গ্রামের সাধারণ মানুষের জীবনযাপন নিয়ে তৈরি ভিডিওগুলো ব্যাপক সাড়া পায়।
বর্তমানে জনির চারটি ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে, যেগুলোতে লাখের বেশি সাবস্ক্রাইবার রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। টিকটকেও তার অনুসারীর সংখ্যা পাঁচ লাখ ছাড়িয়েছে।
জনির ভাষ্য অনুযায়ী, ফেসবুক ও ইউটিউবের বিজ্ঞাপন আয়, ব্র্যান্ড প্রমোশন, স্পন্সরশিপ এবং লাইভ গিফট থেকে তিনি প্রতি মাসে প্রায় ১ লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করেন। প্রত্যন্ত গ্রামে বসে এমন আয় করায় বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি করেছে।
জনি বলেন, ‘আমি চাইলে শহরে গিয়ে স্টুডিও ভাড়া করে কাজ করতে পারতাম। কিন্তু আমি চেয়েছি আমার গ্রামের সৌন্দর্য ও মানুষের জীবনযাত্রা সবার সামনে তুলে ধরতে। মানুষ এখন গ্রামের সহজ জীবন দেখতে পছন্দ করে।’
তার সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে ধুপখালী ও আশপাশের গ্রামের অনেক তরুণ কনটেন্ট তৈরির দিকে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। কেউ রান্নার ভিডিও, কেউ কৃষি নিয়ে কনটেন্ট তৈরি করছেন। নতুনদের সহযোগিতায় জনি নিজেও বিনামূল্যে ভিডিও এডিটিং ও কনটেন্ট তৈরির প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন বলে জানান।
স্থানীয় এক ইউপি সদস্য বলেন, ‘জনি আমাদের গ্রামের গর্ব। সে দেখিয়ে দিয়েছে, ইচ্ছা ও পরিশ্রম থাকলে গ্রামে বসেও ডিজিটাল দুনিয়ায় সফল হওয়া সম্ভব।’
ভবিষ্যতে গ্রামে একটি ছোট কনটেন্ট ক্রিয়েশন সেন্টার গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন আল আমিন হাসান জনি। সেখানে গ্রামের তরুণ-তরুণীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের আয়ের সুযোগ তৈরি করতে চান তিনি।
জনির মতে, প্রযুক্তিকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে প্রত্যন্ত গ্রাম থেকেও দেশ-বিদেশে পরিচিতি অর্জন করা সম্ভব। তার এই পথচলা গ্রামীণ তরুণদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দিকও দেখাচ্ছে।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম