যোগফল প্রতিবেদক:
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ শামসুজ্জোহা হলের একটি কক্ষে গভীর রাতে মশারির ওপর বিষধর কালাচ প্রজাতির সাপ পাওয়া গেছে। তবে সাপটি দংশন করার আগেই উদ্ধার করায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচেছেন ওই কক্ষে থাকা এক শিক্ষার্থী।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাত আড়াইটার দিকে হলের ১২১ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
শিক্ষার্থীরা জানান, গভীর রাতে ঘুম ভেঙে মশারির ওপর সাপটি দেখতে পান ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী রাব্বি রেজা। পরে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘রাবি সেইভ ওয়াইল্ড লাইফ অ্যান্ড ন্যাচার’কে (সোয়ান) খবর দেওয়া হলে সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবক সামিত ও সাজ্জাদ প্রায় ১০ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাপটি উদ্ধার করেন।
সোয়ানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা সাপটি পাতি কালাচ বা পাতি কেউটে। ইংরেজিতে এটি ‘কমন ক্রেইট’ নামে পরিচিত। এর বৈজ্ঞানিক নাম(Bungarus caeruleus)।
সাপটি ইলাপিডি গোত্রের বিষধর প্রজাতি এবং এর বিষ নিউরোটক্সিক ধরনের। বাংলাদেশে কালাচ প্রজাতির সাপ সংরক্ষিত বন্যপ্রাণীর তালিকায় রয়েছে। ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনের আওতায় এ প্রজাতি সংরক্ষিত।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শহীদ শামসুজ্জোহা হলের আশপাশ দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গল, ঝোপঝাড় ও অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় রয়েছে। এ কারণে প্রায়ই সেখানে সাপের উপদ্রব দেখা যায়।
হলের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার বিষয়ে প্রাধ্যক্ষকে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
একই কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী মো. সাকিল আহমেদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে লেখেন, রাতে ঘুম থেকে উঠে মশারির ওপর বিষধর সাপ দেখতে পাওয়ার ঘটনায় তারা আতঙ্কিত। হল প্রাধ্যক্ষকে একাধিকবার জানানোর পরও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জোহা হলের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে শহীদ শামসুজ্জোহা হলের প্রাধ্যক্ষ ড. মো. আল-আমিন সরকার বলেন, এক শিক্ষার্থী ঘুম থেকে উঠে মশারির ওপর সাপ দেখতে পেয়ে বিষয়টি রুমমেটকে জানান। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেসকিউ টিমকে খবর দেওয়া হলে তারা এসে সাপটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়। ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, সাপের উপদ্রব ঠেকাতে এর আগেও কার্বোলিক অ্যাসিড ব্যবহার করা হয়েছে এবং হলের চারপাশ পরিষ্কার করা হয়েছে। গত সপ্তাহেও প্রশাসনের উদ্যোগে হলের পেছনের অংশ পরিষ্কার করা হয়েছে।
প্রাধ্যক্ষের ধারণা, হলের পেছনের দিক দিয়ে সাপটি ভেতরে প্রবেশ করেছে।
তিনি আরও জানান, সাপের প্রবেশ ঠেকাতে হলের পেছনে ভালো মানের নেট লাগানো এবং ড্রেনগুলো পুনরায় পরিষ্কার করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তানজিলা / অনলাইন
ডেস্ক / যোগফল.কম