যোগফল প্রতিবেদক:
বরিশালের বাকেরগঞ্জে ইলিশের বাজারে চড়া দাম অব্যাহত রয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন বাজারে আকারভেদে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত। এতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ক্রেতাদের অনেকেই ইলিশ কিনতে গিয়ে পড়ছেন বিপাকে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) উপজেলার কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, মাছের দোকানগুলোতে ইলিশের সরবরাহ থাকলেও দাম তুলনামূলক বেশি। বড় আকারের ইলিশের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ থাকলেও উচ্চমূল্যের কারণে অনেকে মাছ না কিনে ফিরে যাচ্ছেন। কেউ কেউ আবার বিকল্প মাছ কিনছেন।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আকার ও ওজনভেদে ইলিশের দামে বেশ পার্থক্য রয়েছে। তিনটি ইলিশে এক কেজি ওজনের মাছ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে। দুটি ইলিশে এক কেজি ওজনের মাছের দাম ১ হাজার ৮০০ টাকা। ৮০০ গ্রাম ওজনের একটি ইলিশের দাম রাখা হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৪০০ টাকা। আর এক কেজি ওজনের বড় ইলিশ বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত।
চড়া দামের কারণে ইলিশ এখন অনেক নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। কয়েক হাজার টাকা দিয়ে একটি মাছ কেনার পরিবর্তে ওই অর্থে পরিবারের প্রয়োজনীয় চাল, ডাল, তেল ও সবজিসহ অন্যান্য নিত্যপণ্য কিনছেন অনেক ক্রেতা।
বাকেরগঞ্জ বন্দর বাজারে মাছ কিনতে আসা লোকমান হোসেন বলেন, ইলিশের দাম শুনলে এখন মনে হয়, মাছ না কিনে ওই টাকা দিয়ে সংসারের অন্য বাজার করাই ভালো। এক কেজি ইলিশের দাম যদি ৩ হাজার টাকা হয়, তাহলে মাসের বাজার সামলানো কঠিন।
বাকেরগঞ্জ পৌর মার্কেটের ক্রেতা মাসুদুর রহমান বলেন, ইলিশ কিনে খাওয়া এখন মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য অনেকটা বিলাসিতার মতো হয়ে গেছে। পরিবারের অন্যান্য খরচ সামলে এত টাকা দিয়ে ইলিশ কেনা সম্ভব হচ্ছে না।
রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের বাসিন্দা দিনমজুর কালাম গাজী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ইলিশ খাওয়া হয়নি। তাঁর সন্তানরা ইলিশ খাওয়ার আবদার করায় বাজারে এসেছিলেন। কিন্তু ৬০০ গ্রাম ওজনের দুটি ইলিশের দাম দেড় হাজার টাকা চাওয়ায় তিনি আর কিনতে পারেননি। তাঁর ভাষ্য, এই টাকা তাঁর দুই দিনের আয়ের সমান।
পৌর মার্কেটের মাছ ব্যবসায়ী জাফর গাজী বলেন, আড়তদারদের কাছ থেকে বেশি দামে ইলিশ কিনতে হচ্ছে। ফলে বেশি দামে বিক্রি করা ছাড়া তাদেরও উপায় থাকছে না। আড়ত থেকে কম দামে মাছ পাওয়া গেলে তারাও কম দামে বিক্রি করতে পারবেন।
বাকেরগঞ্জ পৌর মার্কেটের উন্নয়ন কমিটির সভাপতি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মিলটন চন্দ্র পাল বলেন, মানুষের চাহিদার তুলনায় ইলিশের সরবরাহ পর্যাপ্ত নয়। ঘাটতির কারণে ভরা মৌসুমেও ইলিশের দাম বেশি রয়েছে।
ফলে একসময় সাধারণ মানুষের পাতে নিয়মিত দেখা মিললেও চড়া দামের কারণে জাতীয় মাছ ইলিশ এখন অনেক পরিবারের কাছেই হয়ে উঠেছে দুর্লভ খাবার।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম