যোগফল প্রতিবেদক:
ইরান যুদ্ধকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধাস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে ওয়াশিংটনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। গোপন তথ্য কীভাবে সাংবাদিকদের কাছে পৌঁছেছে, তা খুঁজে বের করতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ৫০ জন শীর্ষ কর্মকর্তার পলিগ্রাফ পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’-এর প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আগস্ট মাসে পেন্টাগনের উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের এই পরীক্ষার মুখোমুখি করা হয়। তথ্য ফাঁসের সঙ্গে কারা জড়িত, তা শনাক্ত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে গোপন তথ্য প্রকাশে অন্যদের নিরুৎসাহিত করাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল বলে জানা যায়।
দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার বিষয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর পেন্টাগন এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেয়।
পেন্টাগনের মুখপাত্র শিন পারনেল বলেন, জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত গোপন তথ্য অননুমোদিতভাবে প্রকাশ করাকে অত্যন্ত গুরুতর বিষয় হিসেবে দেখা হয়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের ঘাটতি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এ ধরনের খবরকে ‘শতভাগ মিথ্যা’ বলে দাবি করেন এবং তথ্য ফাঁসকারীদের ‘দেশদ্রোহী’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, চলমান যুদ্ধ কিংবা ভবিষ্যতে সম্ভাব্য যেকোনো সংঘাত মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের পর্যাপ্ত ও প্রায় সীমাহীন অস্ত্রের মজুত রয়েছে। একই সঙ্গে দেশটি ইতিহাসের অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় দ্রুতগতিতে নতুন যুদ্ধাস্ত্র উৎপাদন করছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তথ্য ফাঁসের ঘটনায় পলিগ্রাফ পরীক্ষা নেওয়ার এই উদ্যোগ মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের গোপন তথ্য ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম