যোগফল প্রতিবেদক:
গাজীপুরের গাছা থানায় মানিক নামে এক ব্যক্তিকে মাদকসহ গ্রেপ্তারের পর জব্দ করা ইয়াবা ও নগদ টাকা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে ৪০০ পিস ইয়াবা ও নগদ ৭০ হাজার টাকা জব্দ করা হলেও পরবর্তী সময়ে মামলায় মাত্র ১০ পিস ইয়াবা দেখানো হয়েছে। এ ঘটনায় ঘুষ লেনদেন ও জব্দ করা মালামাল গোপনের অভিযোগও উঠেছে পুলিশের এক এসআই ও স্থানীয় এক কথিত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও মানিকের পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গাছা থানা পুলিশের একটি অভিযানে মানিককে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ৪০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং পকেটে থাকা ৭০ হাজার টাকা জব্দ করা হয় বলে দাবি পরিবারের।
পরিবারের অভিযোগ, মানিককে থানায় নেওয়ার পর তাকে কঠোর ধারায় মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করা হয়। একপর্যায়ে পরিবারের পক্ষ থেকে এসআই আল-আমিনের হাতে ৮০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। পরে আরও ৫ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা।
এ ঘটনায় স্থানীয় এক কথিত সাংবাদিকের বিরুদ্ধেও মধ্যস্থতার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, মামলা হালকা করে দেওয়ার কথা বলে ওই ব্যক্তি তাদের কাছ থেকে আরও ১০ হাজার টাকা নেন।
পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, আটকের সময় জব্দ করা ৭০ হাজার টাকা, পরবর্তীতে দেওয়া ৮০ হাজার ও ৫ হাজার টাকা এবং কথিত সাংবাদিককে দেওয়া ১০ হাজার টাকা মিলিয়ে মোট ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকার লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। এরপর মানিকের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মাত্র ১০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের কথা উল্লেখ করে মামলা করা হয় বলে পরিবারের দাবি।
এদিকে, পরিবারের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী মোট অর্থের পরিমাণ ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। ফলে আগের হিসাবে ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা উল্লেখ করা হলেও যোগফল অনুযায়ী তা ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা হয়।
ঘটনার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে—অভিযোগ অনুযায়ী জব্দ করা ৪০০ পিস ইয়াবার মধ্যে বাকি ৩৯০ পিসের কী হয়েছে? এসব ইয়াবা সরকারি জব্দ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করার কারণ কী, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে জব্দ করা নগদ ৭০ হাজার টাকার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।
মানিকের পরিবারের অভিযোগ, ছেলেকে বড় ধরনের আইনি ঝামেলা থেকে রক্ষা করার আশ্বাসে তারা ধার-দেনা করে টাকা দিয়েছেন। তবে টাকা দেওয়ার পরও ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান হয়নি বলে তাদের দাবি।
পুলিশের মতো একটি দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানের সদস্যের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, জব্দ করা মাদক কম দেখানো এবং নগদ টাকা গোপনের মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত এসআই আল-আমিনের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম