যোগফল প্রতিবেদক:
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারানোর পর নতুন কাজ বা স্পন্সর খোঁজার জন্য এইচ-১বি ভিসাসহ বেশ কয়েকটি ক্যাটাগরির বিদেশি দক্ষ কর্মীদের এতদিন যে ৬০ দিনের বিশেষ সুবিধা বা গ্রেস পিরিয়ড দেওয়া হতো, তা বাতিলের প্রস্তাব করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর রয়টার্সের।
ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, চাকরি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এইচ-১বি ভিসাধারী এবং নির্দিষ্ট কিছু অস্থায়ী বিদেশি কর্মীকে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করতে হবে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর বৈধ অভিবাসন কমাতে ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া পদক্ষেপগুলোর মধ্যে এটি সর্বশেষ উদ্যোগ।
প্রস্তাবিত পরিবর্তন বাস্তবায়ন হলে সিলিকন ভ্যালির শীর্ষ তথ্যপ্রযুক্তি কোম্পানিগুলো বড় ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে পারে। বিদেশি কর্মীদের দ্রুত চলে যাওয়ার কারণে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটতে পারে বলে স্বীকার করেছে ডিএইচএস। তবে সংস্থাটির দাবি, এসব পদে পরবর্তীতে যোগ্য মার্কিন নাগরিকদের নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হবে।
কোনো কর্মী চাইলে নিজ দেশে ফিরে গিয়ে নতুন করে ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন বলেও জানানো হয়েছে।
২০১৭ সাল থেকে চালু থাকা ৬০ দিনের এই সুবিধার আওতায় বিদেশি কর্মীরা চাকরি হারানোর পর নতুন কর্মসংস্থান খোঁজার পাশাপাশি বাড়ি বিক্রি, সন্তানদের স্কুল পরিবর্তনসহ প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত বিষয়গুলো গুছিয়ে নেওয়ার সময় পেতেন।
প্রস্তাবিত নতুন নিয়মের সমালোচনা করেছেন ইউসি ডেভিস স্কুল অব ল-এর অধ্যাপক গ্যাব্রিয়েল চিন এবং অভিবাসন সংগঠন এফডব্লিউডি.ইউএসের প্রেসিডেন্ট টড শুল্টে। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্তে বিদেশি কর্মীদের পাশাপাশি মার্কিন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও সমস্যার মুখে পড়বে।
১৯৯০ সালে চালু হওয়া এইচ-১বি ভিসা মূলত ভারত ও চীনের প্রযুক্তিবিদদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। মার্কিন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি ডেলয়েট, পিডব্লিউসি, আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ং, টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (টিসিএস), ইনফোসিস, এইচসিএল টেক ও এলটিআইমাইন্ডট্রির মতো বৈশ্বিক পরামর্শ ও আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানও এই ভিসা ব্যবহার করে থাকে।
নতুন প্রস্তাবটি চূড়ান্ত করার আগে দুই মাস সাধারণ মানুষের মতামতের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। প্রস্তাবটি চূড়ান্তভাবে কার্যকর হলে এইচ-১বি ছাড়াও ই-১, ই-২, এল-১, ও-১, টিএন, এইচ-১বি১ এবং ই-৩ ভিসাধারীরাও সরাসরি প্রভাবিত হবেন।
তানজিলা / অনলাইন
ডেস্ক / যোগফল.কম