যোগফল প্রতিবেদক:
নরসিংদীর শিবপুরে শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসল করতে নেমে স্রোতের টানে তলিয়ে যাচ্ছিলেন কয়েকজন। তাদের উদ্ধারে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে এক নারী ও তার শিশুসন্তানকে তীরে তুললেও অন্যদের বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন সৌরভ মিয়া (১৫) নামে এক তরুণ। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১৯ ঘণ্টা পর তার মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সৌরভ মিয়া, মজিবুর শেখের বড় মেয়ের স্বামী সৌদিপ্রবাসী ওবাইদুল্লাহ (৩৫) এবং মজিবুর শেখের ছোট মেয়ে শান্তা (২২)–এই তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শান্ত মিয়া (২৪) নামে আরও একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
শুক্রবার বিকেলে শিবপুর উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের লাখপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল আবার উদ্ধার অভিযান শুরু করে। সকাল ১০টার দিকে সৌরভ ও ওবাইদুল্লাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে দুপুরের দিকে শান্তার মরদেহও উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরের কালীগঞ্জের ভঙ্গাল এলাকার বাসিন্দা ওবাইদুল্লাহ স্ত্রী-সন্তান নিয়ে শ্বশুরবাড়ি লাখপুর গ্রামে বেড়াতে আসেন। পরে পরিবারের কয়েকজন সদস্য শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসল করতে নামেন।
গোসলের একপর্যায়ে শান্তা আক্তার নদীর স্রোতে তলিয়ে যেতে থাকেন। তাকে ধরে রাখতে গিয়ে তার বোন শাহীনুর আক্তারও সন্তানসহ পানিতে হাবুডুবু খেতে থাকেন। তাদের উদ্ধারে ওবাইদুল্লাহ ও শান্ত এগিয়ে গেলে তারাও স্রোতের মধ্যে পড়ে যান।
এ সময় বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্থানীয় তরুণ সৌরভ মিয়া তাদের উদ্ধারে নদীতে ঝাঁপ দেন। তিনি শাহীনুর আক্তার ও তার শিশুসন্তানকে উদ্ধার করে তীরে তুলে আনেন। এরপর অন্যদের উদ্ধারে আবার নদীতে নামলে তীব্র স্রোতের টানে তিনিও নিখোঁজ হয়ে যান।
খবর পেয়ে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শিবপুর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। তবে নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযান চালিয়েও নিখোঁজদের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ভৈরব থেকে আসা ডুবুরি দলকে সঙ্গে নিয়ে আবার উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর সকাল ১০টার দিকে সৌরভ মিয়া ও ওবাইদুল্লাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে শান্তার মরদেহও উদ্ধার করা হয়।
শিবপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা আবুল কাশেম বলেন, নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে শুক্রবার উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হয়েছিল। শনিবার ডুবুরি দল নিয়ে আবার অভিযান চালিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ শান্ত মিয়ার সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উদ্ধার হওয়া শাহীনুর আক্তার বলেন, শান্তা নদীতে তলিয়ে যাচ্ছিলেন দেখে তিনি তাকে ধরে রাখার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে নিজেও পানিতে তলিয়ে যেতে থাকেন। তাদের উদ্ধারে স্বামী ও ভাগনে নদীতে নামেন। এ সময় সৌরভ নদীতে ঝাঁপ দিয়ে তাকে ও তার শিশুসন্তানকে উদ্ধার করে তীরে তুলে দেন। পরে অন্যদের উদ্ধারে গিয়ে সৌরভ নিজেই নিখোঁজ হন।
শিবপুর থানার উপপরিদর্শক নাদিম হাসান জানান, নিখোঁজ শান্ত মিয়াকে উদ্ধারে অভিযান চলছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম