ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬:
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এবং জামালপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন, “শুধু দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ নয়, গোটা জামালপুর আমার।” জামালপুরবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন সংগ্রামে জামালপুরের মানুষ তাকে পাশে থেকে সহযোগিতা করেছেন।
পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে সংবর্ধনা দেয় জামালপুর সমিতি, ঢাকা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি। এ সময় জামালপুরের নির্বাচিত সংসদ সদস্য, জামালপুর সমিতির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও জেলার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, “শুধু দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ নয়, গোটা জামালপুর আমার। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন সংগ্রামে আমি জামালপুরবাসীকে আমার পাশে পেয়েছি। এজন্য আমি আজীবন আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।”
তিনি বলেন, জামালপুরবাসীর দোয়া ও ভালোবাসা ছাড়া তার আজকের অবস্থানে আসা সম্ভব হতো না। সবসময় জামালপুরের জনগণের জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছেন বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালে জামালপুরবাসী তাকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেন। পরবর্তীতে ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর-১ আসন থেকে দ্বিতীয়বারের মতো জনগণের প্রতিনিধিত্ব করার দায়িত্ব পেয়েছেন।
সততা ও সত্যের পথে থাকার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “যদি সৎ পথে চলা যায়, সত্য কথা বলা যায় তবে সর্বশক্তিমান আল্লাহর রহমত পাওয়া যায়। এর প্রমাণ আমি নিজেই। আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি আজ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী।”
বক্তব্যে তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন মরহুম ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদারকে। তার নেতৃত্ব জামালপুরবাসীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন ছিল উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, তার নেতৃত্ব শুধু তার নিজের জন্য নয়, গোটা জামালপুরবাসীর জন্যও ছিল এক বিরাট পাওয়া।
জামালপুরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, লাওচাপড়াকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঝিনাইগাতীতে পর্যটন হোটেল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলার পর্যটন স্পটগুলোকে পরিকল্পিতভাবে তুলে ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষকে জামালপুর ভ্রমণে আগ্রহী করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, যমুনা নদীর ভাঙন রোধে একটি প্রকল্প বর্তমানে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) রয়েছে। প্রকল্পটি শিগগিরই অনুমোদিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জামালপুরের সাধারণ মানুষ নদীভাঙনের কবল থেকে সুরক্ষা পাবে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে দেশের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার আহ্বান জানান এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
তিনি বলেন, “আসুন, আমরা সবাই মিলে এই দেশটাকে ভালোবেসে দেশের জন্য যার যার অবস্থান থেকে কাজ করি।”
অনুষ্ঠানে জামালপুরের নির্বাচিত সংসদ সদস্যগণ, জামালপুর সমিতি ঢাকার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং জামালপুরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।