ছবিতে পরিদর্শক মো. রাকিবুল হাসান (প্রত্যাহার)
মিজানুর রহমান সিকদার | নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পরিদর্শক মো. রাকিবুল হাসানকে একটি ভাইরাল অডিওকে কেন্দ্র করে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পরে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে তাকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) মিন্টো রোড কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে অডিওটির বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও এর সত্যতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই অডিওতে সরকার, প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনী নিয়ে বিভিন্ন সমালোচনামূলক বক্তব্য শোনা যায়। অডিওতে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গ, পুলিশের সক্ষমতা, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক অবস্থান এবং পুলিশে পদায়ন ও বদলির ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগসংবলিত বক্তব্যও রয়েছে।
পুলিশের একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে অডিওর কণ্ঠস্বরটি রাকিবুল হাসানের বলে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে অডিওটির সত্যতা ও বক্তব্যের বিষয়বস্তু স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডও জানিয়েছে, তারা অডিওটির সত্যতা বা এতে করা অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
এদিকে অডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর রাকিবুল হাসান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, ভাইরাল অডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে এবং এতে তার কণ্ঠস্বর নকল করা হয়েছে। তার এই দাবিও তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে।
ঘটনার পর ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে রাকিবুল হাসানকে ক্যান্টনমেন্ট থানা থেকে প্রত্যাহার করে ডিএমপি সদরদপ্তর ও প্রশাসন বিভাগের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। আদেশে প্রত্যাহারের কারণ হিসেবে ‘প্রশাসনিক কারণ’ উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে বৃহস্পতিবার রাতে তাকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অডিওটির সত্যতা যাচাই ও রাকিবুল হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিএমপি তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিতে ডিবির সাইবার ক্রাইম বিভাগের একজন কর্মকর্তাও রয়েছেন।
ডিবির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, অডিও নিয়ে চলমান অনুসন্ধানের অংশ হিসেবেই তাকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। তদন্তে অডিওটি আসল নাকি কৃত্রিমভাবে তৈরি—তা যাচাই করা হবে। অডিওর সত্যতা ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।
তদন্তের ফলাফল ও অডিওর ফরেনসিক যাচাইয়ের পরই এ ঘটনায় পরবর্তী প্রশাসনিক বা বিভাগীয় ব্যবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
যোগফল অনলাইন নিউজ ডেস্ক