মেহেদী হাসান রিপন । যশোর প্রতিবেদক :
যশোর-মাগুরা মহাসড়কের শতখালী এলাকায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নৈশকোচের চালকসহ একাধিক যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন।১৯ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে মহাসড়কের শতখালী এ. আর জুটমিলের সামনে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। গভীর রাতে বিকট শব্দে বাসটি সড়কের পাশের একটি বিশাল গাছের ওপর আছড়ে পড়লে পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে প্রাথমিক উদ্ধারকাজ শুরু করেন এবং পরবর্তীতে আহতদের চিকিৎসার জন্য উদ্ধার করে জেলা ও স্থানীয় একাধিক হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। আহতদের মধ্যে একজনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রাজধানী ঢাকা থেকে খুলনা অভিমুখে ছেড়ে আসা ‘হানিফ পরিবহন’-এর একটি দূরপাল্লার দ্রুতগামী নৈশকোচ মহাসড়কের শতখালী এ. আর জুটমিল এলাকা অতিক্রম করার সময় হঠাৎ চালক গাড়িটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এসময় দ্রুতগতির বাসটি সোজা গিয়ে সড়কের পাশে থাকা একটি বড় গাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। তীব্র ধাক্কায় বাসটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় এবং ভেতরের যাত্রীরা একে অপরের ওপর ছিটকে পড়ে মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত হন। দুর্ঘটনার সময় বাসের ভেতরে থাকা অধিকাংশ যাত্রী ঘুমন্ত অবস্থায় থাকায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও আঘাতের তীব্রতা বেশি ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
খবর পেয়ে দ্রুত দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা চালানো হয় এবং আহতদের শারীরিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, আহতদের মধ্যে ১ জনকে দ্রুত মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং ১ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় যশোর সাধারণ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য আঘাতপ্রাপ্ত বেশ কয়েকজন যাত্রীকে তাৎক্ষণিক প্রাথমিক চিকিৎসা ও নিবিড় পরিচর্যার জন্য স্থানীয় ফাতেমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের শরীরে গুরুতর জখম ও হাত-পা ভাঙার চিহ্ন রয়েছে।
দুর্ঘটনাটি চালকের অসাবধানতা, অতিরিক্ত গতি নাকি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ঘটেছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে এখনো চিহ্নিত করা যায়নি। স্থানীয় প্রশাসন ও হাইওয়ে থানা পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি অপসারণ এবং সড়ক যানজট মুক্ত করার পাশাপাশি ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেছে। দুর্ঘটনায় আহতদের পরিচয় এবং তাদের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
যোগফল ডেস্ক