নিজস্ব প্রতিবেদক:
সফল গ্র্যাজুয়েটদের সম্মাননা, অ্যালামনাইদের মধ্যে সংযোগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বীকৃতি দেওয়ার মধ্য দিয়ে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ডিআইইউ) ‘প্লেসমেন্ট সেলিব্রেশন ডে ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের (সিডিসি) আয়োজনে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গত এক বছরে দেশি-বিদেশি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে চাকরি পাওয়া গ্র্যাজুয়েটদের পেশাগত সাফল্য উদযাপন, বিশ্ববিদ্যালয় ও অ্যালামনাইদের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং গ্র্যাজুয়েটদের কর্মসংস্থানে অবদান রাখা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘বেস্ট এমপ্লয়ার’ বা সেরা নিয়োগকর্তা হিসেবে সম্মাননা দেওয়াই ছিল আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক দেবদুলাল রায়। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক মো. মাহাবুবুল করিম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আর কবির, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসুম ইকবাল, কোষাধ্যক্ষ ড. হামিদুল হক খান এবং রেজিস্ট্রার ড. নাদির বিন আলী।
অনুষ্ঠানে ড্যাফোডিল ফ্যামিলির চেয়ারম্যান ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টিবোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সফল গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশ্যে ভিডিও বার্তা দেন।
চাকরিপ্রাপ্ত আমন্ত্রিত গ্র্যাজুয়েটদের অভ্যর্থনা ও নিবন্ধনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। উদ্বোধনী পর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য স্বাগত বক্তব্য দেন। এ সময় সফল গ্র্যাজুয়েটরা তাদের কর্মজীবনের সাফল্য ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
পরে চাকরিপ্রাপ্ত গ্র্যাজুয়েটদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। ডিআইইউ কালচারাল ক্লাবের পরিবেশনার মধ্য দিয়ে ‘স্বাধীনতা সম্মেলন কেন্দ্র’ থেকে র্যালিটি শুরু হয়ে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ও শহীদ মিনারের পাশ দিয়ে ‘নলেজ টাওয়ার’-এ গিয়ে শেষ হয়। র্যালিতে ডিআইইউ রোভার স্কাউট ও বিএনসিসি প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে গ্র্যাজুয়েটদের গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
এবারের আয়োজনের অন্যতম বিশেষ দিক ছিল পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ। সফল গ্র্যাজুয়েটদের সম্মান জানানোর সময় প্রচলিত ফুলের তোড়ার পরিবর্তে তাদের হাতে ইনডোর ও শোভাবর্ধক উদ্ভিদ তুলে দেওয়া হয়। গ্র্যাজুয়েটদের প্রথাগত ‘স্যাশ’-এর পাশাপাশি দেওয়া এসব উদ্ভিদের মাধ্যমে তাদের সমৃদ্ধি, সাফল্য ও ভবিষ্যৎ পেশাগত অগ্রগতির শুভকামনা জানানো হয়।
আয়োজকদের মতে, এই উদ্যোগ টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশ সচেতনতার পাশাপাশি গ্র্যাজুয়েটদের নিরবচ্ছিন্ন পেশাগত অগ্রগতির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
দিনব্যাপী এ আয়োজন ক্যাম্পাসে প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শেষ হয়। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি জানিয়েছে, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পেশাগত অর্জন উদযাপনের পাশাপাশি তাদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।