মো. সজিব । শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গিধুরিয়া গ্রামে পানি নিষ্কাশনের জন্য নির্মিত কালভার্টের মুখে দেয়াল নির্মাণ ও কংক্রিট ঢালাই করে পানি চলাচল বন্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এতে বর্ষা মৌসুমে দুই পাশের বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ৩৫ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত কালভার্টটি সরকারি পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত। এর পশ্চিম পাশে প্রায় ১৫০ বিঘা এবং পূর্ব পাশে প্রায় ১ হাজার বিঘা কৃষিজমি রয়েছে। কালভার্টটি মূলত দুই পাশের পানি স্বাভাবিকভাবে চলাচল ও নিষ্কাশনের জন্য ব্যবহার হয়ে আসছিল।
তবে বর্তমানে পূর্ব পাশে দেয়াল নির্মাণ এবং কালভার্টের অংশে কংক্রিট ঢালাই করে পানি চলাচল বন্ধ করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে বর্ষা মৌসুমে দুই পাশের পানি স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে না পারলে আশপাশের কৃষিজমি ও বসতবাড়িতে পানি জমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন, জমিটি ব্যক্তিমালিকানাধীন হলেও যদি কালভার্টটি পানি নিষ্কাশনের উদ্দেশ্যে নির্মাণ করা হয়ে থাকে, তাহলে কালভার্টের মুখ বন্ধ করে দেওয়ার ফলে কৃষকদের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা কীভাবে হবে?
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কালভার্ট নির্মাণের কাজটি স্থানীয় বিএনপি নেতা খোরশেদের ঠিকাদারি/কাজের সংশ্লিষ্টতার মাধ্যমে করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে খোরশেদের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি জানান, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, কালভার্টের বাউন্ডারি দেওয়ার পর পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার কথা বলা হচ্ছে কেন? পানি চলাচল স্বাভাবিক রাখার প্রয়োজন থাকলে নির্মাণকাজের সময়ই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া যেত বলে দাবি তাদের।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, জমিটি কসমো গ্রুপের মালিক জহির কিনেছেন। জমি কেনার পর সেখানে স্থাপনা বা সীমানা নির্মাণের ক্ষেত্রে পানি নিষ্কাশনের পথ যাতে বন্ধ না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, বর্ষা মৌসুমে দুই পাশের পানি চলাচলের পথ বন্ধ থাকলে কৃষিজমির পাশাপাশি আশপাশের বাড়িঘরেও পানি উঠে যেতে পারে। এতে কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ব্যাপক দুর্ভোগের সৃষ্টি হতে পারে।
এ বিষয়ে রাজাবাড়ী ইউনিয়নের প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, স্থানীয় কোনো ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত করে কালভার্টের পানি চলাচলের পথ উন্মুক্ত রাখা এবং স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।