যোগফল প্রতিবেদক:
ঠাকুরগাঁও আদালত চত্বরে খোলা আকাশের নিচে বছরের পর বছর পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকারও বেশি মূল্যের বিভিন্ন যানবাহন। মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করা এসব মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার, ট্রাক, পিকআপ ও অটোরিকশা দীর্ঘদিন সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় হারাচ্ছে ব্যবহারযোগ্যতা ও মূল্য।
কোনো যানবাহনের আসন নেই, কোনোটি দরজা কিংবা কাচবিহীন অবস্থায় পড়ে আছে। আবার অনেক যানবাহনে মরিচা ধরে এমন অবস্থা হয়েছে যে, সেগুলো মাটির সঙ্গে মিশে যাওয়ার উপক্রম।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে ঠাকুরগাঁও আদালত এলাকার পেছনে বিআরটিএ কার্যালয়ের সামনে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি জব্দ করা যানবাহন খোলা জায়গায় স্তূপ করে রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিনের রোদ-বৃষ্টি ও ধুলায় এসব যানবাহনের বেশির ভাগই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অনেকগুলোর কঙ্কালসার কাঠামো ছাড়া তেমন কিছুই অবশিষ্ট নেই।
আদালতের মালখানা সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সাল থেকে জেলার বিভিন্ন থানায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, মাদক ও সড়ক দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন মামলায় জব্দ করা যানবাহন এখানে জমা করা হচ্ছে।
বর্তমানে সেখানে প্রায় ২০০টি মোটরসাইকেল, আড়াই শতাধিক বাইসাইকেল, একটি ট্রাক, কয়েকটি প্রাইভেট কার, পিকআপ ভ্যান ও অটোরিকশা রয়েছে। মামলার নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ সময় লাগায় বছরের পর বছর এসব আলামত খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, একটি মামলা নিষ্পত্তি হতে অনেক সময় ১০ থেকে ১২ বছর পর্যন্ত লেগে যায়। ফলে মামলা শেষ হওয়ার আগেই জব্দ করা যানবাহনগুলোর মূল্য ও ব্যবহারযোগ্যতা কমে যাচ্ছে। এতে একদিকে ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে নিলামের সময় সরকারও সম্ভাব্য ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
মালখানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কোর্ট এসআই আব্দুল মালেক জানান, গত মাসেও ১৬টি মোটরসাইকেল নিলাম করা হয়েছে। তবে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও স্থান সংকটের কারণে অনেক যানবাহন এখনো সংরক্ষণের পর্যাপ্ত সুবিধা পাচ্ছে না।
সংশ্লিষ্টদের মতে, মামলার আলামত সংরক্ষণের জন্য নিরাপদ ও পর্যাপ্ত জায়গার ব্যবস্থা করা গেলে যানবাহনগুলোর অযথা ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি ও নিয়মিত নিলামের উদ্যোগ নেওয়া হলে মালিক ও সরকার—উভয়ের আর্থিক ক্ষতি কমানো যেতে পারে।
তানজিলা / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম