রংপুর নগরী ও আশপাশের এলাকায় মাদক পরিস্থিতিকে ‘চরম উদ্বেগজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী মাসের সভায় দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠানোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় যোগ দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, রংপুরের সবচেয়ে বড় সমস্যা মাদক। এর কারণে অপরাধ ও নিষ্ঠুরতা বাড়ছে। নগরীর মাছুয়া পাড়ায় মাদকসেবনে বাধা দেওয়ায় একই পরিবারের চারজন হত্যার শিকার হওয়ার ঘটনাও উল্লেখ করেন তিনি।
মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান ও মামলা নিয়ে অভিযোগ তুলে মীর শাহে আলম বলেন, অভিযানে আটক মাদক কারবারিদের অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে জামিনযোগ্য ধারায় নামমাত্র মামলা দিয়ে আসামিদের আদালতে পাঠানো হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে রংপুরে বিভিন্ন খাত ও প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট গড়ে উঠছে। মাঠে-ঘাটে, বাস ও দোকানসহ বিভিন্ন জায়গায় টাকা আদায়ের মাধ্যমে মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রংপুর নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘একটি থানার জায়গায় ছয়টি থানা হওয়ার পরও আইনশৃঙ্খলার অবনতি কেন?’
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী মাসের সভায় যদি পরিস্থিতির উন্নতি না হয়, তাহলে দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠাবেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী জানান, গত ছয় মাসে রংপুর জেলার সড়ক সংস্কার ও উন্নয়নে ১২৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও নীলফামারীর অবকাঠামো উন্নয়নে ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প একনেকের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। এছাড়া রংপুর বিভাগের জন্য ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকার আরেকটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন ও বিভাগের পৌরসভাগুলোর উন্নয়নের জন্যও নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নেও সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী আগামী জানুয়ারি থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হয়ে ৬ জুনের মধ্যে শেষ হবে। এ জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সভায় রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, রংপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রব্বানী, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেজেকা সুলতানা ফ্যান্সি, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামুসহ প্রশাসন ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।