রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে এক দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর তদন্ত কর্মকর্তার পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। আসামিকে আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করেন বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক মাজেদুল ইসলাম।
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, বিমানবন্দরে আখতারুজ্জামানের আচরণের পেছনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য কোনো কুচক্রী মহলের ইন্ধন ছিল কি না, তা জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সকালে মদিনা থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে আসা ওমরাহ যাত্রীদের জমজমের পানি সরবরাহে বিলম্ব হয়। ওই ফ্লাইটে আখতারুজ্জামানও ছিলেন। বিমানবন্দরে পৌঁছে তিনি এ নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন।
এ সময় বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদকে উদ্দেশ করে আখতারুজ্জামানের রূঢ় ও হুমকিমূলক বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তাকে বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ‘ঘাড় ধরে বের করে দেওয়ার’ হুমকি দিতে দেখা যায়।
এ ঘটনায় শুক্রবার বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) নিরাপত্তা কর্মকর্তা শাহরিয়ার আলম সজীব। মামলায় সরকারি কাজে বাধা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৩৮ ফ্লাইটে জামায়াতের ৩৪ জন প্রতিনিধি সপরিবারে মদিনা থেকে শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছান। ওই সময় বিমানবন্দরে যাত্রীর বাড়তি চাপ থাকায় ট্রলি সংগ্রহে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। পরে লাগেজ ও জমজমের পানি সরবরাহে বিলম্ব হওয়ায় কয়েকজন উত্তেজিত হয়ে পড়েন।
এজাহারে আরও বলা হয়, পরিস্থিতি সামাল দিতে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক ঘটনাস্থলে গেলে আখতারুজ্জামান তার সঙ্গে রূঢ় আচরণ করেন এবং হুমকি দেন। একপর্যায়ে নিরাপত্তা সুপারভাইজার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিনের সঙ্গেও তিনি অশোভন আচরণ ও শারীরিকভাবে আঘাত করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় শুক্রবার বিকেলে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) শফিকুল ইসলাম জানান, বিমানবন্দর থানার মামলায় আখতারুজ্জামানকে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে, ওমরাহ যাত্রীদের জমজমের পানি সরবরাহে বিলম্বের ঘটনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যাগেজ ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম প্রধান ও ফ্লাইট সুপারভাইজার সাদ্দাম হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের দায়িত্বে অবহেলার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, কনটেইনার অফলোডিং ও পরিচালনাগত গাফিলতির কারণে ব্যাগেজ বেল্টে সময়মতো জমজমের পানি পৌঁছাতে বিলম্ব হয়। বিষয়টি নজরে আসার পর দ্রুত নিজস্ব সংরক্ষিত স্টক থেকে পানি সরবরাহ করা হয় এবং পরে অপর কনটেইনার শনাক্ত করে সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়।
অন্যদিকে, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। পাশাপাশি শাহজালাল বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে দলটি।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব দাবি জানান।