যোগফল প্রতিবেদক:
শক্তিশালী মার্কিন ডলার ও যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা বৃদ্ধির চাপে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা কমেছে। তবে চলতি মাসে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার না বাড়াতে পারে—এমন প্রত্যাশায় স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন হয়নি।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টার দিকে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১২৮ দশমিক ৮৩ ডলারে নেমেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ১৫৫ দশমিক ৯০ ডলারে স্থিতিশীল ছিল।
মার্কিন ডলার সূচক শক্ত অবস্থানে থাকায় অন্যান্য মুদ্রার ব্যবহারকারীদের জন্য ডলারভিত্তিক স্বর্ণ কেনা তুলনামূলক ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।
এর আগে সোমবার ১০ ও ৩০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা ২৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। এতে স্বর্ণের বাজারে বিক্রির চাপ তৈরি হয়।
ক্যাপিটাল ডটকমের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক কাইল রোডা বলেন, দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণের মৌলিক ভিত্তি এখনও শক্তিশালী। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক সংকট স্বর্ণের দামের পরবর্তী বড় অনুঘটক হতে পারে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার নিয়ে নীতিগত অবস্থান স্পষ্ট হলে স্বর্ণের বাজারে আবারও ঊর্ধ্বগতি দেখা দিতে পারে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি কমে যাওয়ায় অক্টোবরেই ফেড সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন আশঙ্কা কিছুটা কমেছে। তবে ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ৮৭ শতাংশ বলে সিএমইর ফেডওয়াচ টুলে প্রতিফলিত হচ্ছে।
সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের মতো নিয়মিত আয় করে না এমন সম্পদে বিনিয়োগ ধরে রাখার সুযোগ-ব্যয় বেড়ে যায়। ফলে সাধারণত স্বর্ণের ওপর চাপ তৈরি হয়।
এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট সিলভারের দাম ০.৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬০ দশমিক ৬৯ ডলারে এবং প্লাটিনামের দাম ০.৫ শতাংশ কমে ১ হাজার ৭১২ দশমিক ২০ ডলারে নেমেছে। প্যালাডিয়ামের দামও ০.৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ১৬৬ দশমিক ৮৬ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে।
তানজিলা / অনলাইন
ডেস্ক / যোগফল.কম