নিজস্ব প্রতিবেদক:
কিশোর-কিশোরীদের বিষণ্নতা সব সময় কান্না বা বিষণ্ন মুখের মাধ্যমে প্রকাশ পায় না। অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত রাগ, খিটখিটে মেজাজ কিংবা ঘন ঘন ক্ষোভ প্রকাশের মধ্য দিয়েও তা প্রকাশ পেতে পারে। কারও কারও মাথাব্যথা ও পেটব্যথার মতো শারীরিক অভিযোগও দেখা দিতে পারে।
তবে একটি বা দুটি লক্ষণ দেখেই বিষণ্নতা নিশ্চিত করা যায় না। সন্তানের স্বাভাবিক আচরণের তুলনায় পরিবর্তনটি কতটা দীর্ঘস্থায়ী এবং তার জীবনে কতটা প্রভাব ফেলছে, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সন্তানের পাশে থাকবেন যেভাবে
সন্তানের মানসিক অবস্থার পরিবর্তন বুঝতে অভিভাবকদের ধৈর্যশীল ও মনোযোগী হওয়া জরুরি। সন্তানের কষ্টকে ‘বয়সের দোষ’ কিংবা ‘সাময়িক ব্যাপার’ বলে উড়িয়ে দিলে তারা নিজেদের অনুভূতির কথা বলতে অনাগ্রহী হয়ে উঠতে পারে।
এ ক্ষেত্রে সন্তানের কথা মন দিয়ে শোনা এবং নিজের অনুভূতি প্রকাশের সুযোগ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। সঙ্গে সঙ্গে সমস্যার সমাধান দেওয়ার চেষ্টা না করে তার অভিজ্ঞতা ও কষ্ট বোঝার চেষ্টা করতে হবে।
কথোপকথন শুরু করতে অভিভাবকেরা বলতে পারেন, ‘ইদানীং তোমাকে একটু মনমরা লাগছে, কী হয়েছে বলবে?’ এ ধরনের খোলামেলা প্রশ্ন সন্তানকে মনের কথা বলতে উৎসাহিত করতে পারে।
পাশাপাশি সন্তানের ঘুম, খাওয়াদাওয়া, পড়াশোনা, বন্ধুত্ব এবং দৈনন্দিন আচরণে কোনো পরিবর্তন হচ্ছে কি না, সেদিকেও নজর রাখা প্রয়োজন। দোষারোপ না করে সহানুভূতির সঙ্গে কথা বললে সন্তান নিজের সমস্যার কথা সহজে জানাতে পারে।
কখন বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেবেন?
সন্তানের মানসিক অবস্থার পরিবর্তন দীর্ঘস্থায়ী হলে, ক্রমে বাড়তে থাকলে কিংবা পড়াশোনা, পারিবারিক সম্পর্ক ও দৈনন্দিন কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করলে শিশু বিশেষজ্ঞ বা মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সন্তান নিজের ক্ষতি করার কথা বললে, আত্মহত্যার চিন্তা প্রকাশ করলে কিংবা বেঁচে থাকার কোনো অর্থ নেই বলে জানালে বিষয়টি কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়া যাবে না। এ ধরনের পরিস্থিতিতে দ্রুত পেশাদার সহায়তা নিতে হবে। তাৎক্ষণিক বিপদের আশঙ্কা থাকলে সন্তানকে একা না রেখে জরুরি সহায়তার ব্যবস্থা করতে হবে।
কৈশোরের মানসিক পরিবর্তন সব সময় বিষণ্নতার লক্ষণ নয়। তবে সন্তানের আচরণে দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন দেখা দিলে তা উপেক্ষা না করে তার পাশে থাকা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া জরুরি। সময়মতো সমস্যা শনাক্ত করা ও যথাযথ সহায়তা কিশোর-কিশোরীদের মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনটি সাধারণ তথ্যের জন্য; এটি চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়। সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক/ যোগফল. কম