যোগফল প্রতিবেদক:
ভোলার মনপুরায় ফজরের নামাজ শেষে মসজিদ থেকে ডেকে নিয়ে এক সহকারী শিক্ষক ও এক স্বাস্থ্যকর্মীকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করার অভিযোগ উঠেছে। জামায়াতে ইসলামীর এক ওয়ার্ড সভাপতির নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আহত দুই ভাই।
রোববার (১১ অক্টোবর) ভোর ৬টার দিকে উপজেলার মনপুরা ফাজিল মাদ্রাসা জামে মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন মনপুরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের চারুকলা বিষয়ের সহকারী শিক্ষক ফজলে রাব্বি এবং মনপুরা ইউনিয়নের কাউয়ারটেক কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মী মো. ফয়সাল হাওলাদার। তাঁরা আপন দুই ভাই এবং মনপুরা ইউনিয়নের ঈশ্বরগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা অহিদুর রহমানের ছেলে।
আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আহত শিক্ষক ফজলে রাব্বি জানান, ফজরের নামাজ শেষে তিনি মসজিদে বসে দোয়া পড়ছিলেন। এ সময় তাঁর বড় ভাই ফয়সাল হাওলাদারকে আলাউদ্দিনের ছেলে ফয়সাল মসজিদ থেকে ডেকে নিয়ে যান। পরে জামায়াতে ইসলামীর নেতা মিজানের নেতৃত্বে চার-পাঁচজন তাঁদের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করেন।
তিনি আরও জানান, বড় ভাইয়ের চিৎকার শুনে তাঁকে রক্ষা করতে মসজিদ থেকে বেরিয়ে এলে হামলাকারীরা তাঁকেও মারধর করেন। এতে দুই ভাই রক্তাক্ত জখম হন। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
আহত স্বাস্থ্যকর্মী মো. ফয়সাল হাওলাদার অভিযোগ করেন, ফজরের নামাজের পর তাঁকে মসজিদ থেকে ডেকে নিয়ে জামায়াতের ওয়ার্ড সভাপতি মিজানের নেতৃত্বে ফয়সাল, সুমন, রিয়াদসহ কয়েকজন হামলা করেন। এ সময় দুই ভাইয়ের মাথায় আঘাত লাগে এবং তাঁরা রক্তাক্ত জখম হন। তিনিও ঘটনার বিচার দাবি করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আমিমুল ইহসান জসিম বলেন, ঘটনাটি নিন্দনীয়। হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানান তিনি।
মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজাহারুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে হামলার অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ওয়ার্ড সভাপতি এবং অন্য অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
তানজিলা / অনলাইন
ডেস্ক / যোগফল.কম