নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর ধানমন্ডিতে এক তরুণীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে এক বয়স্ক ব্যক্তিকে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ঘটনায় ওই ব্যক্তিকে রাস্তায় মারধর করা এক যুবককে খুঁজছে পুলিশ।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক বয়স্ক ব্যক্তি কান ধরে আছেন এবং এক যুবক তাকে রাস্তায় মারধর করছেন। ভিডিওটি প্রচার করে অনেকে ঘটনাটিকে ‘মব’ হিসেবে উল্লেখ করেন। কেউ কেউ এ ঘটনাকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির উদাহরণ হিসেবেও তুলে ধরেন। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঘটনার পেছনে রয়েছে ভিন্ন প্রেক্ষাপট।
ধানমন্ডি থানা পুলিশ জানিয়েছে, মারধরের শিকার বয়স্ক ব্যক্তি ২৮ বছর বয়সী এক তরুণীর স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে ঘটনাস্থলে হট্টগোল শুরু হলে কয়েকজন পথচারী তাকে মারধর করেন। ওই তরুণীও প্রতিবাদ জানান। তবে মারধরের ঘটনায় আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এক যুবককে শনাক্ত করে খুঁজছে পুলিশ।
ঘটনাটি যেখানে ঘটেছে
ভাইরাল ভিডিও পর্যবেক্ষণ করে ঘটনাস্থল হিসেবে রাজধানীর ‘বাংলাদেশ আই হাসপাতাল অ্যান্ড ইনস্টিটিউট’-এর আশপাশের এলাকা চিহ্নিত করা হয়। এ সূত্র ধরে অনুসন্ধানে জানা যায়, ঘটনাটি সাতমসজিদ রোডের ধানমন্ডি ২৭ ট্রাফিক পুলিশ বক্সের পাশের।
ঘটনাটি সম্পর্কে ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম তৈয়ব জানান, গত ১২ অক্টোবর দুপুর আড়াইটা থেকে বিকেল ৩টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত বয়স্ক ব্যক্তির নাম শহীদ আব্দুল্লাহ আল মাসুদ। তিনি এক নারীকে শ্লীলতাহানি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে এবং বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন বলে জানান ওসি।
ওসি বলেন, শ্লীলতাহানির অভিযোগে পথচারীরা ওই ব্যক্তিকে আটকে মারধর করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ভুক্তভোগী নারীকে মামলা করার কথা বলা হলেও তিনি রাজি হননি। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে পাঠানো হয় এবং তার এক মাসের সাজা হয়েছে।
মারধরকারী যুবককে খুঁজছে পুলিশ
ওসি মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম তৈয়ব আরও জানান, ভিডিওতে সাদা শার্ট পরা যে যুবককে ওই ব্যক্তিকে লাথি মারতে দেখা গেছে, তাকে খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
তিনি বলেন, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কাউকে মারধর করার অধিকার কারও নেই। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া অপরাধ।
তুলি আক্তার / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম