পাকিস্তান সীমান্তবর্তী ইরানের পূর্বাঞ্চলে পৃথক হামলায় অন্তত দুই নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছেন। দেশটির গুরুত্বপূর্ণ চাবাহার বন্দরের আশপাশে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ধারাবাহিক হামলার মধ্যে সর্বশেষ এ ঘটনা ঘটল।
ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশের মেহরেস্তান জেলায় নিজ বাড়ির বাইরে গুলিতে নিহত হন দেশটির আধাসামরিক বাহিনী বাসিজের নারী ইউনিটের এক কমান্ডার। বাসিজ বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) অংশ।
একই জেলার কাছাকাছি পৃথক আরেকটি হামলায় পুলিশের একটি গাড়ি লক্ষ্য করে আক্রমণ চালানো হয়। এতে আরও এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হন।
এদিকে, বুধবার বালুচ জাতিগোষ্ঠীর অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন হালভাশ জানায়, ইরানশহর শহরের আকাশে সামরিক হেলিকপ্টার চক্কর দিচ্ছিল। ওই সময় অঞ্চলটির কয়েকটি এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ ছিল বলেও জানায় সংগঠনটি।
ইরানের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশেই দেশটির গুরুত্বপূর্ণ চাবাহার বন্দর। গত জুলাইয়ে বন্দরটির অবকাঠামো ও নৌ-নিয়ন্ত্রণ স্থাপনা লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অঞ্চলটিতে একাধিক হামলা চালিয়েছে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী। ইরান সরকার এসব গোষ্ঠীকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে বর্ণনা করে দাবি করেছে, বিদেশ থেকে তাদের অর্থায়ন ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
গত সপ্তাহে সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনার (আইআরএনএ) প্রতিবেদনে বলা হয়, বন্দুকধারীরা মাকরান উপকূলে মোতায়েন একটি নিরাপত্তা ইউনিটের সদস্যদের বহনকারী মিনিবাসে হামলা চালায়। এতে একজন নিহত ও তিনজন আহত হন।
অন্য একটি ঘটনায় এলাকায় টহলরত নিরাপত্তা বহরে হামলা চালিয়ে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যা করে ‘বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী’—এমন তথ্য জানিয়েছে ইরনা।
চলতি মাসের শুরুর দিকে আইআরজিসির আল-কুদস বাহিনী জানায়, চাবাহার বন্দরের কাছে এক অভিযানে অন্তত দুই সন্দেহভাজন হামলাকারীকে হত্যা করা হয়েছে এবং একটি কথিত ‘সন্ত্রাসী চক্র’ ধ্বংস করা হয়েছে।
আইআরজিসির বিবৃতি অনুযায়ী, রাশাক শহরের কাছে একটি চেকপোস্টে নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্য নিহত হওয়ার পর ওই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে পাহাড়ি এলাকায় গোষ্ঠীটির আস্তানা থেকে একটি স্টারলিংক যন্ত্র ও বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধারের দাবিও করেছে বাহিনীটি।
তুলি আক্তার / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম