যোগফল প্রতিবেদক:
ছুরি, চাপাতি ও রামদা দিয়ে এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। তবে হাসপাতাল থেকে দেওয়া মেডিকেল রিপোর্টে ধারালো অস্ত্রের আঘাতকে ভোঁতা অস্ত্রের আঘাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী রাজু আহমেদ। প্রতিপক্ষের প্রভাবে চিকিৎসক প্রকৃত আঘাতের বিবরণ গোপন করে মনগড়া রিপোর্ট দিয়েছেন বলে দাবি তার। এ ঘটনায় হাসপাতাল পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
রাজু আহমেদ রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানার বাগানপাড়া মহল্লার বাসিন্দা। পেশায় ব্যবসায়ী রাজুর নগরের লক্ষ্মীপুর মোড়ে একটি আবাসিক হোটেল রয়েছে। গত জুলাই মাসে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়ে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি হন। ২৭ থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। এ ঘটনায় থানায় মামলাও করেছেন রাজু।
পরে রামেক হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. সায়ের মোহাম্মদ রিয়াদ মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে রাজুর মেডিকেল সনদ দেন। তবে ওই সনদে শরীরের বিভিন্ন স্থানের আঘাতের বিবরণ এবং হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রের ধরন যথাযথভাবে উল্লেখ করা হয়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর।
এ বিষয়ে গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ-উল ইসলামের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন রাজু আহমেদ।
অভিযোগে রাজু উল্লেখ করেন, গত জুলাই মাসে ছুরি, চাকু, চাপাতি ও রামদা নিয়ে তার ওপর হামলা চালান সন্ত্রাসীরা। এতে তার মাথা ও নিতম্বে গুরুতর জখম হয়। এ ছাড়া লোহার পাইপ দিয়ে তার একটি চোখে আঘাত করা হয়। এতে চোখের চারপাশে কালশিরা পড়ে। পরে তাকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
রাজুর দাবি, শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষত থাকা সত্ত্বেও হাসপাতাল থেকে দেওয়া ছাড়পত্রে মাথায় সামান্য আঘাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একইভাবে সহকারী রেজিস্ট্রারের দেওয়া মেডিকেল রিপোর্টেও আঘাতের প্রকৃত ধরন ও হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রের বিবরণ যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি।
তিনি অভিযোগে আরও বলেন, ছুরি, রামদা ও চাপাতির আঘাতে তার মাথায় পাঁচটি, চোখের ওপর চারটি এবং বাম নিতম্বের বিভিন্ন স্থানে পাঁচটি, চারটি, তিনটি ও চারটি করে সেলাই দিতে হয়েছিল। অথচ মেডিকেল রিপোর্টে শুধু মাথার চামড়া ও নিতম্বের একটি স্থানের আঘাতের বিবরণ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতগুলোকে ‘কাটা ক্ষতের মতো দেখতে’ উল্লেখ করে সেগুলোকে সাধারণ আঘাত হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। পাশাপাশি আঘাতের কারণ হিসেবে ভোঁতা বস্তুর কথা লেখা হয়েছে বলে দাবি তার।
রাজু আহমেদ বলেন, “রামদা, ছুরি ও চাকু দিয়ে আমাকে আঘাত করা হয়েছিল। ছুরি-চাকু কীভাবে ভোঁতা বস্তু হলো, তা আমার কাছে বোধগম্য নয়। মামলা করার পর প্রতিপক্ষরা নানাভাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছে। তাদের প্রভাবে চিকিৎসক মেডিকেল রিপোর্টে আঘাতের ধরন ও ব্যবহৃত অস্ত্রের প্রকৃত বিবরণ উল্লেখ করেননি বলে আমার মনে হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “মনগড়া রিপোর্টের কারণে আসামিরা সহজেই জামিন পেয়ে যেতে পারেন। এতে আদালতে ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছি। প্রতিপক্ষরা অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় চিকিৎসককে প্রভাবিত করেছেন বলে শুনেছি।”
নিজের শরীরের আঘাত পুনরায় পরীক্ষা করে প্রকৃত তথ্যের ভিত্তিতে মেডিকেল রিপোর্ট দেওয়ার জন্য হাসপাতাল পরিচালকের কাছে আবেদন জানিয়েছেন রাজু। একই সঙ্গে আঘাতের ধরন ও হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রের বিবরণ আড়াল করার অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামীম আহমেদ বলেন, রামদা বা চাপাতির উল্টো দিক দিয়ে আঘাত করা হলে সেটিকে ভোঁতা অস্ত্রের আঘাত হিসেবে উল্লেখ করা হতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক কী কারণে এমনটি লিখেছেন, তা তিনিই ভালো বলতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের অভিযোগ থাকলে আবারও মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হবে। জরুরি বিভাগ ও ওয়ার্ডের তথ্য মিলিয়ে যাচাই করে নতুন করে রিপোর্ট দেওয়া হবে।
তানজিলা / অনলাইন
ডেস্ক / যোগফল.কম