যোগফল প্রতিবেদক:
আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, আর্থিক সীমাবদ্ধতা ও নিরাপত্তা সংকটের মধ্যেও অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়েছে ইরান। দেশটির দৈনিক তেল উৎপাদন সক্ষমতা ২০২৪ সালের আগস্টের তুলনায় ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনা নিয়েও নতুন বার্তা দিয়েছে তেহরান।
রোববার (১৮ অক্টোবর) ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনার প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্টে ইরানের দৈনিক অপরিশোধিত তেল উৎপাদন সক্ষমতা ছিল ৩৪ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭ লাখ ১৫ হাজার ব্যারেলে। অর্থাৎ, দুই বছরের ব্যবধানে দেশটির দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা বেড়েছে ২ লাখ ৮৫ হাজার ব্যারেল।
অভ্যন্তরীণ দক্ষতা বৃদ্ধি ও স্থানীয় প্রযুক্তির ব্যবহারকে এ সক্ষমতা অর্জনের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং সীমিত আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সম্পদের মধ্যেও ইরানের এ অগ্রগতি দেশটির জ্বালানি খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এদিকে, তেল উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির খবরের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া নিয়ে নতুন তথ্য দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি জানিয়েছেন, কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দেওয়া সাত দিনের শান্তি প্রস্তাব এখনো কার্যকর রয়েছে।
নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া এক বার্তায় আরাঘচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্তগুলো মেনে নিলে ষষ্ঠ দিনে হরমুজ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। এরপর সপ্তম দিন থেকে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রস্তাবটি গ্রহণ করা বা না করার সিদ্ধান্ত এখন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করছে।
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি হরমুজ প্রণালি। এ পথে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক থাকা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও তেলের বাজারের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ফলে প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অগ্রগতি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।
তানজিলা / অনলাইন
ডেস্ক / যোগফল.কম