যোগফল প্রতিনিধি | মানিকগঞ্জ
খাদ্যমন্ত্রীর অনুমোদন ছাড়াই সরকারি সফরসূচি তৈরির অভিযোগে এবার মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিও) মো. রফিকুল ইসলামকে দপ্তরের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে একই ঘটনায় মন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মো. আবদুল আওয়ালকে (বুলবুল) অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। নাগরপুর খাদ্যগুদাম পরিদর্শন ঘিরে মন্ত্রণালয়ে এ নিয়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে।
শনিবার (১৮ অক্টোবর) জারি করা এক অফিস আদেশে রফিকুল ইসলামকে মন্ত্রীর দপ্তরের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এর আগে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানানো হয়নি।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব ক্ষেমালিকা চাকমা রফিকুল ইসলামকে দপ্তরের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ অক্টোবর টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় ও খাদ্যগুদাম পরিদর্শনের জন্য একটি সরকারি সফরসূচি জারি করা হয়। মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের স্বাক্ষরে জারি করা ওই সূচি অনুযায়ী, ১১ অক্টোবর পরিদর্শনে যান এপিএস আবদুল আওয়াল।
সফরসূচিতে উল্লেখ করা হয়, ঢাকার মোহাম্মদপুরে এপিএসের নিজ বাসা থেকে যাত্রা শুরু করে পরিদর্শন শেষে আবার সেখানে ফিরে আসবেন তিনি। সফরের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়। পাশাপাশি সরকারি গাড়ির জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে খাদ্য অধিদপ্তরের পরিবহন পুলের পরিচালককেও অনুলিপি দেওয়া হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ওই সফরে আবদুল আওয়ালের সঙ্গে কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তাও ছিলেন। তবে মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এ সফর সম্পর্কে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম কিছুই জানতেন না। পরে বিষয়টি জানতে পেরে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এর পরই এপিএস আবদুল আওয়ালকে মৌখিকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
পরবর্তী সময়ে সরকারি সফরসূচি তৈরিতে পিও রফিকুল ইসলামের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হয়। এ বিষয়ে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। সর্বশেষ শনিবার তাঁকেও মন্ত্রীর দপ্তরের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রীর অনুমোদন ছাড়া সরকারি সফরসূচি তৈরি এবং সেই সূচি অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তাদের সফরের বিষয়টি ঘিরে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি।