শাকুর মাহমুদ চৌধুরী, উখিয়াঃ
কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচারের শিকার দুই রোহিঙ্গা কিশোরকে উদ্ধার করেছে ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। এ ঘটনায় মানবপাচারকারী চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে দুই রোহিঙ্গা যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে দুই কিশোরকে মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়ার পর তাদের পরিবারের কাছ থেকে ৯৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয়।
গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে টেকনাফের ২২ নম্বর উনচিপ্রাং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এপিবিএন চেকপোস্টে এ ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মোহাম্মদ ইউসুফ (৪৩), কুতুপালংয়ের ৭ নম্বর ক্যাম্পের বাসিন্দা এবং মোহাম্মদ ইউনুস (৩১), উনচিপ্রাংয়ের ২২ নম্বর ক্যাম্পের বাসিন্দা।
১৬ এপিবিএনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর উখিয়ার বালুখালীর ৮ নম্বর ইস্ট ক্যাম্প থেকে সৈয়দুল আমিন (১৪) ও মফিজুর রহমান (১৪) নামের দুই কিশোরকে নৌকাযোগে মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, মালয়েশিয়ায় পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে তাদের পাচার করা হয়েছিল। পরে তাদের পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ বাবদ ৯৫ হাজার টাকা আদায় করে মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যরা।
পরবর্তী সময়ে দুই কিশোরকে নাফ নদী পার করে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার সময় উনচিপ্রাং এপিবিএন চেকপোস্টে দায়িত্বরত সদস্যদের সন্দেহ হলে সংশ্লিষ্টদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে দুই কিশোরকে উদ্ধার এবং মানবপাচারের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া দুই কিশোরের বাড়ি উখিয়ার ৮ নম্বর ইস্ট ক্যাম্পের সি/৪ ব্লকে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সঙ্গে ভিকটিম ও তাদের পরিবারের সদস্যদের যথাযথ এপিবিএন নিরাপত্তায় টেকনাফ মডেল থানায় পাঠানো হয়েছে।
১৬ এপিবিএন অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোঃ কাউছার সিকদার বলেন, মানবপাচারের শিকার দুই রোহিঙ্গা কিশোরকে উদ্ধার এবং এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় পাঠানো হয়েছে। মানবপাচার প্রতিরোধ এবং ক্যাম্পের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এপিবিএনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় ২৩ অক্টোবর টেকনাফ মডেল থানায় মানবপাচার মামলা করা হয়েছে। মামলাটি মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬-এর ৬, ৭ ও ২২ ধারায় দায়ের করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
তবে এই চক্রের অন্য সদস্যদের পরিচয়, পাচারের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না এবং মুক্তিপণের অর্থ কীভাবে আদায় করা হয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল. কম