মনজুরুল ইসলাম | সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী বেলকুচি পৌরসভাকে একটি আধুনিক, উন্নত এবং জনবান্ধব ‘স্মার্ট পৌরসভা’ হিসেবে রূপান্তর করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন বেলকুচি উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আহ্বায়ক জননন্দিত নেতা আলহাজ্ব আব্দুর রাজ্জাক মন্ডল। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে বেলকুচিকে একটি দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত স্মার্ট পৌরসভায় রূপায়ণ করা হবে।
সাম্প্রতিক এক সাংবাদিকদের মতবিনিময়ে পৌর এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরে তিনি এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
কাঠামোগত উন্নয়ন ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিঃ
আলহাজ্ব আব্দুর রাজ্জাক মন্ডল বলেন, বেলকুচি পৌরবাসীর জীবনমান উন্নয়নে একটি সু পরিকল্পিত মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করা সময়ের দাবি। নির্বাচিত হলে পৌরসভার কাঠামোগত উন্নয়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছ-
আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থাঃ পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডের কাঁচা রাস্তাগুলো পর্যায়ক্রমে পাকাকরণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং যানজট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।
নাগরিক সেবার ডিজিটালাইজেশনঃ পৌরবাসীর জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, হোল্ডিং ট্যাক্স প্রদান এবং ট্রেড লাইসেন্সসহ যাবতীয় নাগরিক সেবা ঘরে বসেই ডিজিটাল মাধ্যমে প্রাপ্তি নিশ্চিত করা।
বিশুদ্ধ পানি ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনাঃ পৌর এলাকায় সুপেয় পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং পরিবেশবান্ধব ও স্থায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিক বন্দোবস্ত করা।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নঃ পৌর এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মানোন্নয়নে সহযোগিতা এবং স্বাস্থ্যসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কমিউনিটি ক্লিনিক ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর সেবা জোরদার করা।
মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনঃ
যুবকরা আজ মাদকের করাল গ্রাসে ধ্বংসের মুখে—এ কথা উল্লেখ করে আলহাজ্ব আব্দুর রাজ্জাক মন্ডল বলেন, বেলকুচি পৌরসভাকে মাদকমুক্ত করতে কঠোর জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে। কোনো ধরনের সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও সিন্ডিকেটের ঠাঁই বেলকুচিতে হবে না। সাধারণ ব্যবসায়ীরা যাতে স্বাধীনভাবে ব্যবসা করতে পারেন এবং সাধারণ মানুষ যেন নিরাপদে ও শান্তিতে বসবাস করতে পারেন, সে পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। সরকারি অনুদান ও রাজস্বের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক পৌর প্রশাসন গড়ে তোলা হবে।
জনগণের অংশগ্রহণে সমতাভিত্তিক উন্নয়নঃ
তিনি আরও বলেন, দলীয় কোনো ভেদাভেদ নয়, নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করাই হবে মূল লক্ষ্য। সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মতামত ও অংশগ্রহণের মাধ্যমেই বেলকুচির প্রতিটি উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়িত হবে। অবহেলিত ও পিছিয়ে পড়া জনপদগুলোকে উন্নয়নের মূল ধারায় নিয়ে এসে একটি বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে তিনি দলমত নির্বিশেষে সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন এবং সময়োপযোগী ও জনকল্যাণমুখী এ পদক্ষেপ বাস্তবায়নে পৌরবাসীর সর্বস্তরের মানুষের কাছে দোয়া ও সমর্থন প্রত্যাশা করেন।