চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার কুঞ্জছায়া আবাসিক এলাকায় দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত আবু ইউসুফ ওরফে জীবন (২৭) মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আলাউদ্দিন তালুকদার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পায়ে গুরুতর গুলিবিদ্ধ অবস্থায় জীবনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার ডান পা কেটে ফেলতে হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাতে কুঞ্জছায়া আবাসিক এলাকার ২ নম্বর সড়কে জীবনসহ চার-পাঁচজন আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় ১৩ থেকে ১৪ জনের একটি সশস্ত্র দল সেখানে আসে। হামলাকারীদের কয়েকজনের মাথায় হেলমেট ছিল। তাদের হাতে ছুরি ও পিস্তল ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা প্রথমে জীবনকে কিল-ঘুষি মারেন। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার পর তার পা লক্ষ্য করে গুলি চালান। এরপর হত্যার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন তারা।
হামলার পর আহত অবস্থায় জীবনের ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে তিনি ইকরাম বাবু ও আরমানের নাম উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে ছুরিকাঘাত ও গুলি করার অভিযোগ করেন।
জীবনের বাবা অভিযোগ করেন, মামলা করার পর আসামিপক্ষের লোকজন থানায় মামলা নেওয়ার কারণে ওসির বিরুদ্ধে সমাবেশ করার কথা বলছেন। তাদের এলাকায় থাকতে দেওয়া হবে না বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
তার দাবি, প্রকাশ্যে ছেলেকে কুপিয়ে ও গুলি করে আহত করা হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। পুলিশ গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানোর কথা বললেও আসামিদের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
জীবন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন—এমন অভিযোগ অস্বীকার করে তার বাবা বলেন, ‘আমি ২২-২৩ বছর ধরে দোকানদারি করছি। ২০-২৫ লাখ টাকা দিয়ে দোকান করেও আজ ঋণগ্রস্ত। আমার ছেলে সন্ত্রাসী হলে আমি কেন ১০ লাখ টাকা দেনা থাকব? টাকার অভাবে ছেলের চিকিৎসা করাতে পারিনি, ওষুধও কিনতে পারিনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে তারা দেশ ধ্বংস করছে। তারা কোনো দলের লোক নয়, তারা সন্ত্রাসী। আমি সরকারের কাছে তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সঠিক বিচার চাই।’
বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন জানান, ঘটনার পরদিন জীবনের মা বাদী হয়ে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলায় যুবদল নেতা জিল্লুর রহমান জুয়েলকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম